

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ দুই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসন এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত অংশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জেলার সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়নি।
নৌকা বাইচ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনর্থীরা তিতাস পাড়ে ভিড় জমান। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নদীর দুই তীর লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
দর্শনার্থী কুয়েত প্রবাসী মহসিন পারভেজ বলেন, এবার বাড়ি ফিরে এমন আয়োজন দেখে খুবই ভাল লাগলো। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য এ ধরণের আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। অনেক দূর দূরান্তের মানুষজনকে দেখলাম নৌকাবাইচ দেখতে এসেছেন।
আরেক দর্শনার্থী হাসান সাফায়াত বলেন, দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবছর ফের তিতাসের বুকে নৌকা বাইচ হওয়ায় এখানকার অনেক মানুষই আবেগ আপ্লুত হয়েছেন। ঢাকা থেকে এসেও এই বিশাল আয়োজন স্বচক্ষে দেখতে পেরে মনে হচ্ছে যাত্রাটা ভুল হয়নি। আশা করব এর ধারাবাহিতা অব্যাহত থাকবে।
নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, ঐতিহাসিক তিতাস নদী দখল দূষণসহ নানা কারণে ধীরেধীরে নাব্যতা হারাচ্ছে। এই তিতাস আমাদের অস্তিত্বের অংশ, এটা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে, তিতাসকে বাঁচাতে হবে। তরী বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিতাসের দখল দূষণ নিয়ে কাজ করে আসছে। তিতাসে নৌকা বাইচের মতো আয়োজন গুলো খুবই জরুরি। এর ফলে মানুষ নদীর কাছে আসবে, নদীর কথা ভাববে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে জমজমাটভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। এই নৌকা বাইচের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এখনো অটুট আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক চর্চার উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এখানকার মানুষ চায় প্রতিবছর নৌকা বাইচের মত আয়োজন গুলো নিয়মিত হোক। আমরা আশা করি সামনের দিনগুলোতে এধরণের অনুষ্ঠান আরও হবে।
পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

