

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নে জিনদপুর বাজারে অবস্থিত মারকাজুত তাজবীদ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় উক্ত মাদ্রাসায় আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী শনিবার (১৬ মে) বাদী হয়ে মাওলানা তোফাজ্জলকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, জিনদপুর ইউনিয়নে জিনদপুর বাজারে অবস্থিত মারকাজুত তাজবীদ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় পরিচালক ‘পরিচালক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন উপজেলার মেরকুটা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন (৩০)।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ওই মাদ্রাসায় অধ্যয়ণরত ১১ বছরের এক ছাত্রকে দেখতে যান উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ওই শিক্ষার্থীর মা (২৮)।
সূত্র জানায়, প্রায় প্রতি শুক্রবারই ওই নারীর তার ছেলেকে দেখতে মাদ্রাসায় যায়। ছেলেকে ভালো-মন্দ খাওয়ায়। ছেলে পাঠদান ও মাসিক বেতন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেন। ছেলেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ছেলের বেতন দিতে পরিচালকের রুমে ঢুকলে ওই মহিলাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দু’জনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৯টায় অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দু’জনকে থানায় নিয়ে আসেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটিই পূর্বপরিকল্পিত ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’। মূলত মাদ্রাসার ওই পরিচালককে জেলে পাঠাতেই এই পরিকল্পিত ‘নাটক’ মঞ্চস্ত করা হয়।
অভিযুক্ত তোফাজ্জলের আত্মীয় (খালু) শফিকুল ইসলাম স্থানীয় দুই প্রভাবশালীর পূর্ব শত্রুতায় চক্রান্ত করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে জানায়, এই ওই পরিচালক মাদ্রাসার একজন শেয়ারহোল্ডারও। অত্যন্ত সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছে। জিনোদপুর বাজার কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন ও এলাকার মেম্বার মোঃ বাছির মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের সূত্র ধরে মাদ্রাসার দু’জন শিক্ষককে ম্যানেজ করে পরিকল্পিতভাবে ‘যখন ওই মহিলা তার ছেলের বেতন দিতে পরিচালিত রুমে ঢুকেন’ তখন ওৎ পেতে থাকা ওই দুজন শিক্ষক বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর ডেকে পাবলিক জড়ো করা হয়। ওই মহিলা মামলা করতে চাননি জোরপূর্বক তাকে দিয়ে মামলা করানো হয়েছে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে বাজার কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সাথে ওনার বা মাদ্রাসার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেই সময় পুলিশ তাদের দু’জনকে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই এলাকার মেম্বার বাছির মিয়া বলেন, হুজুরের সাথে কোন ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই, বাজারে আমার কোন ব্যবসা নেই। ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানিনা। ঘটনার আধঘন্টার পর মানুষের দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে মাদ্রাসায় যাই। তার কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়। সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এভাবে ভুক্তভোগী মহিলার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন ধরেননি।
থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথের সঙ্গে কথা বললে, তিনি বলেন, ঘটনাটি ষড়যন্ত্র কিনা, তা আদালতই বিচার করবেন। তবে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মাদ্রাসার পরিচালককে একমাত্র আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মাদ্রাসা পরিচালককে গ্রেপ্তার করে কোর্টে চালান করেছে। মামলার তদন্ত চলছে।