সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় ববি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৩ এএম
মহাসড়ক অবরোধের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
expand
মহাসড়ক অবরোধের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বাসের সঙ্গে তিন চাকার যানের সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তাঁরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

নিহত ইয়াসির আরাফাত বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি তিন চাকার যানের সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ আরাফাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার রাত আটটায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে চার দফা দাবি জানান। উপাচার্যের আশ্বাসে রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত ১১টার দিকে ওই কর্মসূচি চলছিল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস ও একটি তিন চাকার যানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার পর চার দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচঢালাই করতে হবে, বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর সড়ক সংস্কার করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক বেহাল। বিভিন্ন মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এরই কারণে আজ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যে চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।’

আরেক শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, ‘রাস্তায় রক্ত না ঝরলে কোনো সমাধান হয় না। আমরা যেসব দাবি উত্থাপন করেছি, সেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি শোনা হয়েছে। পাশাপাশি রূপাতলী থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন