

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলায় আলোচিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি ‘তিন্দু সরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামে পরিচালিত হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (সরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখা) শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৩ জুলাই (সোমবার) থেকে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্ত করা শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।
এর আগে, গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের ব্যতিক্রমী সংগ্রামের গল্প দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছিল।
এই সংকট মোকাবিলায় ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। নৌকা চালিয়ে যে আয় করেন, তার বড় একটি অংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করেন। শুধু চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন হিসেবে দিয়েছেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন বিদ্যালয়ের জন্য একটি বোটের ব্যবস্থা, নতুন ভবন নির্মাণ ও ছাত্রাবাস সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের সংগ্রামের গল্প প্রথম আলোচনায় আসে এনপিবি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে। গত ২৩ মে এনপিবি নিউজে ‘শিক্ষকদের বেতন জোগাতে নৌকা চালান প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর বিষয়টি প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে এবং বিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও সরকারি ঘোষণার উদ্যোগ ত্বরান্বিত হয়।
প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন: ‘শিক্ষকদের বেতন জোগাতে নৌকা চালান প্রধান শিক্ষক’