

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (র.)-এর মাজার সংলগ্ন ঠাকুর দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি অপসারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞরা দিঘির পূর্বপারের একটি ছোট পুকুর থেকে এই মাদি কুমিরটিকে ধরে।
পরে চোখ হাত ও বেঁধে বন বিভাগের গাড়িতে ওঠানো হয়। গাড়িতে করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে কুমিরটিকে উদ্ধারের জন্য সকাল থেকেই বন বিভাগসহ প্রশাসনের লোকজন মাজার এলাকায় অবস্থান করে।
বেলা ১১টায় দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটি দেখা মেলে। পরে তাকে ধরার কার্যক্রম শুরু হয়। বারোটার দিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে কুমির কি বেঁধে ফেলা হয়। এরপর এটিকে দিঘী থেকে তুলে গাড়িতে করে খুলনাতে নিয়ে রওনা করে বন বিভাগ।
এর তিন দিন আগে কুমিরটির আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার আগেও এই কুমির আক্রমনের একাধিক ঘটনা রয়েছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জরুরী সভায় জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রাণীটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এদিকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় সস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দিঘির পাড়ে থাকা স্থানীয় এক মহিলা বাসিন্দা কুলসুম বেহম বলেন, খান জাহানের আমলে যে কুমির ছিল তারা শান্ত ছিল। কিন্তু এই যে কুমির একে আমরা অনেক ভয় পাই। দিঘিতে নামতে পারি না এই কুমিরের ভয়ে। অনেক হিংস্র এই কুমিরটি আগে যে ধলা পাহাড়, কাল পাহাড় ছিল তারা অনেক সভ্য ছিল।
বাগেরহাটের খাদ্দারের বাসিন্দা মাজারে ঘুরতে আসা আরিফ শেখ বলেন, এই বাগেরহাট হাজার বছরের প্রাচীন জনপদ। মধ্যযুগে খান জাহান কর্তৃক নির্মিত এই খলিফাতাবাদ। বিশ্বের সবাই কমবেশি এটা জানে। তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে খানজাহান আলী মাজারের এই দিঘি।
এই দিঘির প্রধান আকর্ষণ ছলো কুমির। কিন্তু সেই কুমিরটি আজকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো। শুনেছি আগেও কয়েকটা কুমির নিয়ে গিয়েছে কিন্তু সেগুলো আর এই মাজারের দিঘিতে ছাড়া হয়নি। এটিও আজকে নিয়ে গেল হয়তো এই কুমিরটিও আর বাগেরহাটের এই দিঘিতে আসবে বলে মনে হয় না।
কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির বলেন, আমরা ভালোভাবে কুমিরটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। প্রায় ৬০০ কেজি ওজন এই মাদী কুমিরটির।
এটিকে এখন খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এই কুমিরটি কোথায় অবমুক্ত করা হবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুযায়ী মাজারের দিঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে প্রাণীটিকে। কুমিরের বিষয়ের পরবর্তীতে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা আলোচনা সাপেক্ষে জানানো হবে বলেন এই কর্মকর্তা।