

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে দেশের কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হতো। অনেক সাংবাদিক গুম, কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হতেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনা পরিবারের ‘শেখতন্ত্র’ বা ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবি পার্টি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে আলেম-ওলামাদের আন্দোলনের পর দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, দৈনিক আমার দেশ ও একুশে টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা মানুষ ভুলে যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও এর সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে গণমাধ্যমকর্মীরা মূলত আওয়ামী ও অ্যান্টি-আওয়ামী, এই দুই ধারায় বিভক্ত ছিলেন। বর্তমানে তারা বিএনপি, জামায়াত এবং পলাতক-গুপ্ত আওয়ামী, এই তিন ধারায় বিভক্ত। জুলাই আন্দোলনের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে শুধু জুলাই সনদ নয়, নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হওয়া উচিত।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ধারণ করা ছবি, ভিডিও ও তথ্য দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, করপোরেট মিডিয়া ও সাংবাদিকতাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় করপোরেট মিডিয়ার একটি বড় অংশ সংবাদ সেন্সরে ভূমিকা রেখেছিল।
ফরিদা আখতার বলেন, মোবাইল জার্নালিস্টদের ধারণ করা ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য আলামত ভবিষ্যতের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ৫ আগস্টের পরও রাষ্ট্র পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি।
দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোবাইল জার্নালিস্ট, ফটোসাংবাদিক ও মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরাই সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। অথচ অনেক সিনিয়র সাংবাদিক অফিসে বসে তথ্য গোপন করেছেন। তিনি শহীদ সাংবাদিকদের হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, মোবাইল জার্নালিজমের স্বীকৃতির দাবি প্রথম তাদের দলই জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে। তিনি সব সাংবাদিকের জন্য ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মূলধারার সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজীব আহাম্মদ, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, এবি পার্টির নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছয় সাংবাদিকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।