

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটে দিনে প্রচণ্ড গরম আর রাতে ঠাণ্ডা হাওয়ার কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিত্রেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ পরিস্থিতি। ৩৬ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৮৪ জন রোগী। ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় একেকটি বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা। অনেকেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে দিনের পর দিন ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই তাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
রোগীর বাবা রুবেল শেখ বলেন, দুই দিন ধরে আমার বাচ্চার জ্বর ও কাশি। রাতে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তাই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে এসে দেখি রোগীর ভিড়, ঠিকমতো বেডও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমার সন্তানকে নিয়ে নিচে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছি ।
অন্য এক অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, দিনে গরমে ঘামছে, আবার রাতে ঠাণ্ডা লাগছে। এই আবহাওয়ার কারণে বাচ্চারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন, কিন্তু এত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
মো. শহিদুল ইসলাম নামে আরেক অভিভাবক জানান, আমার দুই মেয়েই অসুস্থ । একটি বেডে দুইজনকে রাখতে হচ্ছে। তারপরও চিকিৎসা পাচ্ছি, এটাই বড় কথা। তবে পরিস্থিতি খুবই কষ্টকর।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আমাদের শিশু ওয়ার্ডে ৩৬টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ৮৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ঋতু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের রোগীর চাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। আমরা অতিরিক্ত রোগীদেরও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন এবং রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন