সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা ডিপোতে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের হিসাবে গরমিল

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
বাগেরহাটের মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড
expand
বাগেরহাটের মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড

বাগেরহাটের মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল স্থাপনায় (অয়েল ইনস্টলেশন) ডিজেল মজুদে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। ওই তেল স্থাপনার তিনটি ট্যাংকে হিসেবের অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল বেশি পাওয়া গেছে, যা কোম্পানির হিসাবের খাতায় ছিল না। বড় ধরনের জালিয়াতি, অনিয়ম ও পাচারের অংশ হিসেবেই অতিরিক্ত এই তেল ট্যাংকে রেখে হিসাবে কম দেখানো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৯ মিনিট থেকে ভোর রাত পর্যন্ত যৌথ অভিযানে জ্বালানি তেলের মজুতে ব্যাপক অনিয়ম ও গরমিলের বিষয়টি ধরা পড়েছে।

অভিযান চলাকালে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খানের অনুপস্থিতিতে কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন দাপ্তরিক রেজিস্ট্রার ও হিসাব উপস্থাপন করেন। এ ঘটনায় এদিকে রবিবার (২৯ মার্চ) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তে পাঠান হয়েছে।

ওই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) রাইয়ান আলম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার এসএইচএ আবুল কাশেম, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট বিএন খালিদ সাইফুল্লাহ, যমুনা অয়েল মোংলার গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান, বানৌজা মোংলার চিফ পোর্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মোংলা থানার এসআই মো. ইমামুল ইসলাম ও যমুনা অয়েলের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন।

এ ঘটনায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খানকে আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তেলের গরমিল পাওয়া ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ অভিযানের সময় পরিমাপ করে এই ট্যাংকে ডিজেল পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার। যা অফিশিয়াল হিসাবের চেয়ে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম। সব মিলিয়ে মজুতের হিসাবের তুলনায় বাড়তি ডিজেল পাওয়া যায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার। তিনটি ট্যাংকে উল্লিখিত পরিমাণ অতিরিক্ত তেল পাওয়ার ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অভিযানকারী দল ওই ডিপোর তিনটি প্রধান ট্যাংক (ট্যাংক নং-১, ৯ এবং ১৪) পরিমাপ করে। এতে দেখা যায়, ২৮ মার্চে পাঠানো অফিশিয়াল স্টেটমেন্টের সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল নেই। ১ নম্বর ট্যাংকে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী ডিজেল ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার। অভিযানের সময় পরিমাপ করে দেখা যায়, সেখানে ডিজেল রয়েছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার। সে হিসাবে ট্যাংকটিতে তেল বেশি ছিল ৯৩২ লিটার। ৯ নম্বর ট্যাংকে হিসাবের খাতায় তেল মজুত ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার; কিন্তু পরিমাপে এখানে ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার তেলের তথ্য উঠে আসে। সে হিসাবে এই ট্যাংকে বাড়তি ডিজেল পাওয়া যায় ১২ হাজার ৮১৮ লিটার। ১৪ নম্বর ট্যাংকে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী ডিজেল মজুত ছিল ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানান, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত প্রতিষ্ঠানের ৩টি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অবৈধভাবে মজুদকৃত প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুত পাওয়া যায়।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিদর্শন দলের অংশ হিসেবে মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল স্থাপনায় (অয়েল ইনস্টলেশন) অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা একটা বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে পাঠিয়েছি। তারা বিস্তারিত ব্যবস্থা নিবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন