

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র রমজানের প্রথম জুমায় আজ শুক্রবার বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে। প্রতিদিনের মতো পর্যটকের আনাগোনা কিছুটা কম থাকলেও ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ভিড় করেন। জুমার নামাজের আগে ইমামের খুতবার আগেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় মসজিদ।
আজ ষাটগম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করেন ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, সুলতানি আমলের তুঘলকি (তুরস্ক) স্থাপত্যশৈলীতে চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইটে এই মসজিদ হজরত খানজাহান (রহ.) নির্মাণ করেন। ষাটগম্বুজ মসজিদে কোনো শিলালিপি না থাকলেও এর নির্মাণশৈলী এবং এই অঞ্চলের তাঁর তৈরি অন্যান্য মসজিদ ও স্থাপনা বিবেচনায় এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।
৬০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী ঘুরতে ও দেখতে আসার পাশাপাশি নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে জুমার দিনে মসজিদ পূর্ণ হয়ে বাইরেও দুই-তিন কাতার দিতে হয়। দুই থেকে তিন হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন এখানে।
ইমরান হোসাইন বলেন, রমজানের প্রথম জুমায় এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে ভালো লাগছে। বন্ধুরা একসঙ্গে খুলনা থেকে এসেছি। মসজিদের পবিত্রতা ও পরিবেশ যেমন মুগ্ধ, এখানে আসতে পেরে আত্মতৃপ্তি লাগছে।
আইনজীবী মাসুম শেখ বলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদে নামাজ পড়লে অনেক শান্তি পাওয়া যায়। এটি একটি অন্যতম নিদর্শন। নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে এবং আল্লাহর ঘরে সেজদা দিতে পারায় আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হুসাইন বলেন, আমরা প্রতি রমজানের প্রথম জুমা এখানে আদায় করি। মনের দিক থেকে খুব ভালো লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে জুমার নামাজ পড়ার আনন্দ আলাদা।
ষাটগম্বুজ মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, রমজানের প্রথম জুমায় প্রতিবছরই মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তারাবিহর নামাজের জন্য দুজন স্বনামধন্য হাফেজ দিয়ে খতম তারাবিহ পড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন দেড় শ থেকে দুই শ মানুষ ইফতার করেন। কখনো কখনো এই সংখ্যা আরও বাড়ে। রমজানে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মুসল্লি আসেন। তাঁরাও তাঁদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
মন্তব্য করুন
