

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটের কচুয়ায় গোপালপুরে ধানের শীষের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ঘোড়া প্রতীক ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি পোল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গুরুতর আহত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) কে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কচুয়া উপজেলার গোপালপুরে ঘোড়া প্রতীক ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক বিপ্লব এবং ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক সরওয়ার শিকদার আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কচুয়া থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিনি বাধাল বাজার থেকে গোপালপুরের দিকে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। একই মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে আরও দুইজন ছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক রিয়াদ ও মুরাদ শেখের নেতৃত্বে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন এসে তাদের গতিরোধ করে। এরপর গালাগালি শুরু করে এবং মোটা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই আহত হন।
তবে রিয়াদ ও মুরাদের বিরুদ্ধে করা জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘোড়া প্রতীকের নেতারা। এদিকে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় বাধা, অফিস দখল ও কর্মীদের মারধরসহ নানা অভিযোগ এনে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বাগেরহাট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলেমের ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনী সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান টুটুল।
তিনি বলেন, বাগেরহাটের চারটি আসনে যাদের বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদের মেনে নিতে পারেননি। সে কারণে আমরা ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করছি। মনের কষ্টে আমরা বিএনপির বিরুদ্ধাচরণ করছি। কিন্তু নির্বাচনের শুরু থেকেই ধানের শীষের কিছু লোকজন আমাদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। খানপুর, বিষ্ণুপুর, গোটাপাড়া, ষাটগম্বুজসহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কচুয়া যেন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। কচুয়ায় আমাদের দুই কর্মী রিয়াদ ও মুরাদের মোটরসাইকেল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি, যাত্রাপুর ও গোপালপুরে আমাদের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুনেছি বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনা হয়েছে এবং তারা বাগেরহাটে অবস্থান করছে। যেকোনো সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে খুলনা বিভাগের ডিআইজি এবং বাগেরহাট পুলিশের পুরো ইউনিট পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ডা. জাবেদ হোসেন জুয়েল বলেন, আমরা আমাদের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। কাউকে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং ঘোড়া প্রতীকের লোকজন গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের ব্যানার ও পোস্টার একাধিকবার ছিঁড়ে ফেলেছে। বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় আমরা পাঁচটি লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দিয়েছি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোপালপুরের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কিছু পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো লিখিত অভিযোগ হিসেবে পেয়েছি, সেগুলো ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন