শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত বাংলাদেশের উন্নতি চায় না: শিবির সেক্রেটারি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:২৭ পিএম আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
expand
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম সাদ্দাম

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমার তিন দিকে একটা রাষ্ট্র (ভারত) আছে। সেই রাষ্ট্র আমাদেরকে আধিপত্যবাদের বেষ্টনে আবদ্য করে রেখেছে। সে (ভারত) চায় না আমার দেশ (বাংলাদেশ) উন্নত হোক। তারতো অনেক বড় দেশ, সমান তালে উন্নয়ন করতে পারে না।

সে তার সেভেন সিস্টারর্সকে এখনো অনুন্নত করে রেখেছে। সেখানে এখনো তারা পাকা টয়লেট পর্যন্ত স্থাপন করতে পারেনি। আমার দেশের মাথাপিছু আয় যা, ভারতের মাথাপিছু আয় তার চেয়েও কম। কিন্তু সে বড় দেশ, তার পারমাণবিক অস্ত্র আছে। সে আধিপত্য বিস্তার করে আমার দেশকে দমিত করে রাখতে চায়।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে পলিটেনিক শিবির এ আয়োজন করে।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমার ছোট দেশ, উন্নয়ন ঘটাতে সময় লাগার কথা না। অথচ সেই দেশটার শিক্ষা নষ্ট করেছে, শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংস করা হয়েছে, কালচারাল সিস্টেমকে ধ্বংস করেছে, আমার দেশের ইকোনোমি সিস্টেমকে ধ্বংস করেছে। এগুলো ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে দেশটা যাতে কার্যকর একটা রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে তার সকল বন্দোবস্ত তারা (ভারত) করে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) ২৪০ মিলিয়ন ডলার পাচার করে ফেলছে। অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকার উপরে। এটা কল্পনা করা যায় না। ৮ বছরের বাজেটের পরিমাণ সম্পদ তারা লুটপাট করেছে এই বাংলাদেশ থেকে। যদি এটা দেশের ভেতরে থাকতো, যদি ইকোনোমি হাব তৈরি করতো, যদি ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে লাগাতো, ডিপ্লোমাদের ইনিস্টিটিউটগুলোকে আরও বেশি টেকিনিক্যাল ইনস্টিটিউটে পরিণত করতো, এখানে সবচেয়ে মেধাবীরা যদি ভর্তি হতে পারতো, বুয়েটে পড়ার পর ৬২ শতাংশ বিদেশে চলে যায়, এই ৬২ শতাংশকে যদি দেশে রাখা যেতো, গবেষণাগার তৈরি করা যেতো, কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করা যেতো, এই দেশ চার বছরের ব্যবধানে একটি স্বাবলম্বী দেশে পরিণত হতো।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিবিরের সভাপতি শাহাদাত হোসেন আরমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিবিরের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর শহর শিবিরের সভাপতি একেএম ফরিদ উদ্দিন, জেলা কমিটির সেক্রেটারী আব্দুর রহমান প্রমুখ।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সালে চায়না ইকোনোমি যে অবস্থায় ছিল বাংলাদেশের ইকোনোমিও সেই অবস্থায় ছিল। আজকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করেছে ৪০ বছরের ব্যবধানে। বাংলাদেশ ৫৪ বছরের ব্যবধানে আজকে এসেও আমাদের বলে মাথাপিছু আয় ২৮৮২ মার্কিন ডলার। এরপরও শুভংকরের ফাঁকি আছে, কারণ আমাদের ক্যালকুলেশন করে ১৭ কোটি মানুষ দিয়ে, আর আমাদের দেশের মানুষ আছে অন্তত ২০ কোটি।

তিন কোটি বা চার কোটি জনসংখ্যা তারা দেখায় না। যদি দেখায়, মাথাপিছু আয় কমে যাবে ভাগ দিলে। একারণে জনসংখ্যা কম দেখায়, জিডিপির পরিমাণ বেশি দেখায়। তখন বলে উন্নত-উন্নতশীলে দেশের তালিকায় আমাদের নাম যাবে, উন্নয়নের মহাসড়কে জাতিরে উঠায় দিলাম। ধোকাবাজি যা করার এই ফ্যাসিবাদ হাসিনা জনগণের সাথে সবকিছু করেছে।

একটা সময় চায়না আমাদের দেশের মতো হতদরিদ্র অবস্থায় ছিল। সেই চায়না আজকে পৃথিবীর অর্থনৈতিক দিক থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা অর্জন করেছে, চায়না ঠিক সেই সময়ে তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির কাজ শুরু করেছে। চায়না ১৯৭৮ সালে উন্নয়নের কাজ শুরু করেছিল। এর জন্য তারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ওপরই ভর করেছিল। ট্রেডিশনাল বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই বন্ধ করে তারা টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলো। ১৭ হাজার টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলো চায়না, আর আমার বাংলাদেশে আছে একটা ইউনিভার্সিটি।

যদি বলা হয় আরও বিশ্ববিদ্যালয় বাড়াও, আমার এখানে ডিপ্লোমা পড়া ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে না, উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে না, প্রচুর টাকা খরচ হয়, ঝরে পড়ে যায়, এই মেধাকে কাজে লাগাও, সরকার কানেও নেয় না এগুলো। আমরা বারবার বলছি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, না হলে একটি জাতি কোনদিন উন্নতির স্বর্গ শিখরে আরহণ করে না। কিন্তু সরকার এটি মাথায় নেয় না। এরআগের সরকারও মাথায় নেয়নি।

কোন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না? কেন ইঞ্জিনিয়ার সেক্টরকে আমার দেশে গুরুত্ব দেওয়া হয় না? অথচ একটা জাতি এর উপরেই দাড়িয়ে থাকে। ডাক্তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর নির্ভরশীল। রোগী গেলেই বলেন টেস্ট করেন আসেন। আর ওই টেস্ট করে ইঞ্জিনিয়ারদের বানানো ও চালানো যন্ত্রের কাছে। ওই রিপোর্ট দেখেই ওষুধ লিখে দেয়। সুতরাং পৃথিবীর উন্নয়ন সবকিছুই ডিফেন্ট করে ইঞ্জিনিয়ারদের ওপরে। এই জিনিসটা চায়না বুঝতে পেরেছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন