শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হবে পার্লামেন্টে গিয়ে: মির্জা ফখরুল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম
expand
পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হবে পার্লামেন্টে গিয়ে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে নানা শর্ত, দাবি ও জটিলতা সৃষ্টি করে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা) নিয়ে এত তর্ক-বিতর্কের কী আছে? আমি নিজেই তো পুরোপুরি বুঝি না! এসব বিষয়ে আলোচনা হবে পার্লামেন্টে গিয়ে। আগে তো নির্বাচন হোক। এরপর যে মতের বিষয়ে সবাই একমত, তা নিয়ে স্বাক্ষর হবে। বাকিগুলো গণভোটের মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে। কিন্তু এখন নির্বাচন ঠেকানোর নামে এসব দাবি তুলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না।

ফখরুল বলেন, “আমরা হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের কোনো জায়গা বিএনপিতে নেই। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ—যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সম্মিলিতভাবে বসবাস করবে।

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষ আজ দিশেহারা। আমরা যদি সবকিছু রাজনৈতিকভাবে ভাগাভাগি করে ফেলি, তবে দেশেরই ক্ষতি হবে। আমি বলতে চাই—একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন, জনগণ যাকে খুশি ভোট দেবে। আমরা কারও অধিকার কেড়ে নিতে চাই না, আবার বিভাজনও করতে চাই না।”

বিএনপির সরকার গঠন সংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা অতীতে সরকারে ছিলাম, জানি কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। যদি জনগণ আবার সুযোগ দেয়, আমরা দেশের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।”

এ সময় তিনি প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দেন, যাতে তারা নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন।

বিশেষ করে কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, “এই দেশের চাল-ডাল-পেয়াজ উৎপাদন করে কৃষক, অথচ তারাই সবচেয়ে অবহেলিত। আমরা সরকারে গেলে কৃষক হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।”

গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। কেউ যেন সেটা কেড়ে নিতে না পারে। বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। দেশের জন্য আমরা সবাই যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

সভা শেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, মার্কাটা ভুলবেন না, ধানের শীষ। আমি আপনাদের মাঝেই ছিলাম, আছি, থাকব।

সভায় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় বিপুল সংখ্যক সমর্থক অংশ নেন, যারা বিএনপির নির্বাচনী বার্তাকে সামনে রেখে দলীয় মনোভাবের প্রতি সমর্থন জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন