

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়েছেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর। এসময় তিনি ওই সাংবাদিককে নানা ধরনের হুমকি ও চাকুরীচ্যুত করার হুশিয়ারি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সম্প্রতি এলজিইডি কার্যালয়ে অফিস সহকারী মো. তৌফিকুল ইসলামকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী ওই অফিস সহকারী গতকাল বুধবার নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে ঘটনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, জিডির কপি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করেন শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ শিহান। সংবাদ প্রকাশের পরেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর। তিনি সাংবাদিক খান মোহাম্মদ শিহানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় মতিউর রহমান সাগর লিখেন, আপনি কি সাংবাদিক, না সাংঘাতিক? আমার বক্তব্য ছাড়া নিউজ করলেন কিভাবে? ওসির দালালি করেন না। ঠিক আছে, আমি অপু ভাইয়ের (কালবেলার প্রকাশক ও সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু) সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওই বার্তায় তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকের চাকরির বিষয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করবেন।
এ ব্যাপারে মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি উত্তেজিত ভাষায় বলেন, পাড়লে আপনারা কিছু করেন। আমার এক মাসের আয় আপনাদের এই সাংবাদিকদের পেছনে খরচ করে হলেও দেখে নেব। বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না। যারাই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে সকলের বিরুদ্ধে আমি আইনি পদক্ষেপ নিবো।
এ বিষয়ে কালবেলা প্রত্রিকার সাংবাদিক খান মোহাম্মদ শিহান বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তথ্য-প্রমাণ ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপরও এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার প্রেসক্লাব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আর টিভির প্রতিনিধি আবুল হোসেন সরদার বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা সাংবাদিকেরা এ ধরণের হুমকিকে পরোয়া করি না আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্বে সব সময় ন্যায়ের পক্ষে থাকবো।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, আমরা (বিএনপি) হুমকি-ধমকি দেওয়ার পক্ষে না। সাংবাদিক বা কাউকে হুমকি দিয়েছে এমন তথ্য প্রমাণ পেলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিএনপি সবসময় সাংবাদিক ও জনবান্ধব দল।
এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া বলেন, আমি মোবাইলে ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।