

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টেও নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে রয়েছে এবং তিনটি পয়েন্টেই পানি বাড়ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৈনিক পানি সমতলের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় বাল্লা (চুনারুঘাট) পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপরে স্থিতিশীল ছিল। তবে শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে পানি ১১১ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের মাছুলিয়া পয়েন্টে ১২৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এ দুই পয়েন্টে পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুতাং নদীতে পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর ও মার্কুলি পয়েন্টে পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মাধবপুরের সোনাই নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে আরও জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ জেলায় ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে নতুন করে প্রভাব ফেলেছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”
নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে এবং কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে। স্থানীয়দের অপ্রয়োজনে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।