সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রোববার সন্ধ্যায় ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি আবার বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নদীতীরবর্তী চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মাত্র তিন ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে যাওয়ায় নদীপাড়ের মানুষ নতুন করে উদ্বেগে পড়েছেন।

ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ার পর বিকেল থেকে পানির প্রবাহ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। উজান থেকে আরও পানি নামলে নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এর আগে ২৩ জুন একবার তিস্তার পানি অল্প সময়ের জন্য বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেলেও দ্রুত কমে যায়। তবে এবার পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শনিবার সকাল থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত পানির উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়লেও বিকেলের পর তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যার মধ্যেই পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা ও চরাঞ্চল। এসব স্থানে ইতোমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে বসতভিটা ও কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি কিংবা তার ওপরে থাকতে পারে। এ কারণে তিস্তার চরাঞ্চলে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগেই বাড়ি থেকে বন্যার পানি নেমেছিল। কিন্তু রোববার আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে। রাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হতে পারে।

অন্যদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী এলাকার মৎস্যচাষি রুবেল মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ করছেন। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তাঁর জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পানি কমার পর নদী ভাঙনের ঝুঁকিও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
South Africa VS Canada
73'
0 - 0
World Cup