

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরকীয়াজনিত ঘটনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই নেতার সাথে নিহত মমতাজের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো বলে জানা যায়।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ইতালির স্থানীয় সময় প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রোমে বসবাসরত নিহতদের নিকটাত্মীয় হোসনেয়ারা বেগম এ তথ্য জানান।
অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) ও মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা (৫)। একই ঘটনায় কামালের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
জানা যায় , দেশে থাকতেই কামালের স্ত্রী আরজুর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহাদাতের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। তা নিবৃত্ত করতে না পেরে দুই বছর আগে কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালি নিয়ে যান।
এদিকে চার বছর আগে শাহাদাতের স্ত্রী বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে তাকে যুক্তরাজ্য নিয়ে যান। সেখানে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে প্রেমিকা মমতাজ বেগম আরজু ইতালি যাওয়ার খবর পেয়ে ওই বছর শাহাদাতও যুক্তরাজ্য ছেড়ে ইতালি পাড়ি জমান।
ইতালি প্রবাসীদের একাধিক সূত্র ও নিহত কামালের গ্রামের বাড়ির লোকজন জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে কামাল তার রোমের বাসায় স্ত্রী আরজুর পরকীয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রেমিক শাহাদাতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় কামালের দুই সন্তানও উপস্থিত ছিল। বৈঠকে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহাদাত ছুরিকাঘাত করে প্রেমিকা আরজু, তার স্বামী কামাল উদ্দিন বাবুল ও মেয়ে আরিশাকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। কামালের ছেলে অয়ন আহত হলেও পালিয়ে জীবন রক্ষা পান।
এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। যাতে তিনি লেখেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’
অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার জন্য শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন উল্লেখ করে শনিবার (২৭ জুন) তার ছবি প্রকাশ করে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ নিয়ে তারা ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, ‘ছবিতে থাকা ব্যক্তি রোমে গত রাতে ঘটে যাওয়া ট্রিপল মার্ডারের রচয়িতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। লোকটি শাহাদাত হোসেন নামে পরিচিত। ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে জন্ম। তার সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমকে (৩৩৪৬৯০৩২৯৫) জানাতে পারেন।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, শাহাদাত হোসেন চার বছর আগে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর থেকে দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে শাহাদাতের পদত্যাগ বা পদ থেকে অব্যাহতির লিখিত কিছু তিনি দেখাতে পারেননি।
বাড়িতে গেলে শাহাদাতের বড় ভাই সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন বলেন, চার বছর আগে বাড়ির সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর থেকে শাহাদাতের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।