

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সরকারি কর্মীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেলেও পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা একই সঙ্গে এই সুবিধা পাবেন কিনা, নাকি তাদের জন্য আলাদা সিদ্ধান্ত- তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
বাজেট-পরবর্তী আলোচনা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নবম পে-স্কেল এখনও সবার জন্য সমানভাবে ‘নিশ্চিত সুবিধা’ হয়ে ওঠেনি। বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে থাকা একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যে ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে প্রথম ধাপে সংশোধিত বেসিকের ৫০ শতাংশ, পরের ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ভাতাদি পরে সমন্বয়ের পরিকল্পনা বিবেচনায় আছে।
এর ফলে, ১ জুলাই থেকেই পুরো সুবিধা হাতে পাবেন—এমনটি নয়। বরং এটি হবে ধাপে ধাপে, আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী বাস্তবায়িত একটি কাঠামো। জানা গেছে, জুলাই থেকে ধাপে ধাপে পে-স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে বা এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা হলো স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো। এর মধ্যে বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, সংস্থা এবং কিছু বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কেউ সরাসরি সরকারি স্কেল অনুসরণ করে, কেউ নিজস্ব সার্ভিস রুলস অনুযায়ী চলে, আবার কারও ক্ষেত্রে বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
ফলে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে সঠিক শব্দটি হলো অপেক্ষা। সরকারি ঘোষণায় তারা স্পষ্টভাবে বাদও পড়েননি, আবার নিশ্চিতভাবেও অন্তর্ভুক্ত হননি। তাদের সামনে এখন প্রশ্ন—সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাদের নাম বা কাঠামো কীভাবে আসে এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা মন্ত্রণালয় পরে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পেনশনভোগী, এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার দরজা খোলা আছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
