

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদীর মনোহরদীতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা পপি আক্তার।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন হাররদিয়া এলাকার আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা দোলন ও তার সহযোগীরা পপি আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা পপি আক্তারের বিউটি পার্লারে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি নেতা দোলন তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। একই সময় অপর দুই আসামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পপির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার দাবি করেন, চিকিৎসা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও থানায় মামলা করতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো নারী থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।’