মঙ্গলবার
১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমরাহ যাত্রীদের ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
দুই পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী
expand
দুই পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহ যাত্রীদের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওমরাহ কাফেলার প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন।

দুই পীরজাদা শুধুমাত্র একই ব্যক্তি নয়, আরো ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিবন্ধন ছাড়া ‘এসবি ওভারসিজ’ এর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে, মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেয়া অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলার কচুয়া উপজেলার আইনগিরি গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মাওলানা মো. গোলাম মাওলা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে অভিযুক্ত হাম্মাদ ও মিশকাতের সাথে পরিচিত হন।

এর আগে তিনি বিভিন্ন ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী সৌদিতে পাঠিয়েছেন। নিজ জেলা এবং পীরজাদা হিসেবে হাম্মাদ এবং মিশকাতের সাথে খুবই আস্থার সাথে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ওমরাহ যাত্রীদের পাঠানোর জন্য টাকা লেনদেন শুরু করেন।

৬৫ জন ওমরাহ হজ্জযাত্রীর জন্য গোলাম মাওলা নগদ এবং ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেন করেন। এরমধ্যে নগদ অর্থ লেনদেন হয় হাম্মাদের ব্যাংক একাউন্টে এবং বাকি নগদ টাকা দেয়া হয় হাম্মাদের পিতা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরীর হাতে।

ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা বলেন, আমি হোসাইনিয়া হজ্জ কাফেলা নামে ইতোপূর্বে কয়েকবার যাত্রীদের ওমরাহ সম্পন্ন করেছি। ২০২৫ সালে হাম্মাদ ও মিশকাত চৌধুরীর অনুরোধে তাদের মাধ্যমে যাত্রীদের পাঠানোর কাজ শুরু করি।

তারা ওইবছর ১৪ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমার কাছ থেকে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহ পাঠাতে গড়িমসি করেন। এতে তাদেরকে সন্দেহ হয় এবং মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখি তাদের এসবি ওভারসিজ নামে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন নেই।

তিনি আরো বলেন, তারা যাত্রীদের পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আমাকে ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট দেন। এই বিষয়ে তাদের সাথে কথা হলে এক পর্যায়ে আমাকে ২০ ও ২৫ লাখ টাকার দুটি চেক দেন ইসলামী ব্যাংকের। ওই চেকগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকাতে শেষ পর্যন্ত হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামি করে এন.আই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় ঢাকার এম এম আদালতে পৃথক দুটি মামলা করি।

মামলায় দুটি হাজিরার নির্ধারিত তারিখে হাম্মাদ উপস্থিত হননি। তার বাবা যাকারিয়া চৌধুরী সন্তানদের দায়ভার নিতে নারাজ। হাম্মাদ ঢাকায় আত্মগোপনে এবং মিশকাত চৌধুরী বিদেশে রয়েছেন। এসব বিষয় আমি মৌখিকভাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি পুলিশ সুপারের নিকট।

এই ভুক্তভোগী বলেন, তাদের কাছ থেকে আমি যাত্রীদের টাকা উদ্ধারে সামাজিকভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তারা শুধুমাত্র আমার নয়, বহু ওমরাযাত্রীদের টাকা নিয়ে আত্মগোপনে। এখন বড় সমস্যা হচ্ছে যারা আমাকে ওমরাহ করার জন্য টাকা দিয়েছেন তাদেরকে আমি টাকাও ফেরৎ দিতে পারছি না এবং ওমরাহ করার ব্যবস্থা হচ্ছে না।

তাদের জীবনের সবশেষ স্বপ্ন ভেঙেছে। যার ফলে আমি এখন পথে বসার উপক্রম। এই প্রতারক চক্রের কাছ থেকে যাত্রীদের টাকা উদ্ধারের জন্য আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।

আরেক ভুক্তভোগী কুমিল্লার মুরাদ নগরের নছরুল্লাহ হুসাইন বলেন, আমার ১৭৬ জন ওমরাহ হজ্জ যাত্রীর ভিসা ও এয়ার টিকিট বাবদ মিশকাত চৌধুরী তার দুই ভাই হাম্মাদ ও ইয়াহিয়া চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে নিয়েছেন ১ কোটি ৪ লাখ টাকা।

যাত্রীদের কাজ করে দিতে না পেরে আমাকে ৭৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন। সময় পার হয়ে যাওয়ার পর আমি ওই দুই চেকের বিপরীতে কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা করেছি।

ওই মামলায় খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হবে। তাদের এই ধরনের প্রতারণায় আমি পথে বসার উপক্রম। দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো লোকদের সাথে তারা এই ধরনের প্রতারণা করেছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হয়। তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় দিয়ে কথা বলার জন্য ক্ষুদে বার্তা দেয়া হয়, তাতেও তারা কোন সাড়া দেননি। যার ফলে তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে এসব ঘটনার বিষয় জানেন হাম্মাদ ও মিশকাতের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে জানান, ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক। তারা নিজেদের ব্যবসা করেন লোকজনের সাথে। এসব বিষয়ে আমাকে জড়াবে কেন।

মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে, আমি নগদ অর্থ গ্রহণ করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সাথে কোন লেনদেন হয়নি। এসব জামেলার কারণে আমি ছেলেদের সাথে এখন যোগাযোগ রাখি না। কারণ লোকজন আমার সাথে জামেলা করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Senegal
Scheduled
17 Jun, 01:00 AM
VS
World Cup