সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ থেকে ৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধ, খোলা থাকবে করমজল

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

আজ সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনের বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণি ও মাছসহ জলজ্ব প্রাণির প্রজনন সুরক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞার জারি করা হয়েছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী ও পর্যটকরা সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেনা নিষেধাজ্ঞ থাকা কালিন।

২০২১ সাল থেকে এই সময়ে সুন্দরবন রক্ষা ও প্রাণিদের প্রজনন নিশ্চিত করতে বন বিভাগ প্রতিবছর এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি আরও বেশি সজিবতা লাভ করবে বলে দাবি বন বিভাগের। তবে এবছর শুধু করমজলকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। যার ফলে এই নিষেধাজ্ঞার সময়ও সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল থাকা বনজীবিরা হয়ে পড়বেন বেকার। অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হয়ে তাদের। নিষেধাজ্ঞার সময় কমানোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।

শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী গ্রামের বাসিন্দা বনজীবি আব্দুর রশীদ বলেন, সুন্দরবন আর আমাদের বাড়ি একসাথে বললেই চলে, মাঝখানে শুধু একটি ছোট খাল ওপারেই সুন্দরবন। বাপ দাদার সময় থেকে সুন্দরবনের উপর জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে আছি আমরা। বছর যায় অভয়ারণ্যের এলাকা বৃদ্ধি পায় এভাবে বাড়তে থাকলে কিভাবে বাঁচবো আমরা। এ সময় সরকার যে সহযোগিতা করে তা আমাদের ঘর পর্যন্ত পৌঁছায় না।

মাসুম হাওলাদার নামে এক জেলে বলেন, আগে তো নিষেধাজ্ঞা ছিল দুই মাস, এখন তিন মাস করেছে। তিন মাস আমরা কিভাবে থাকবো। বন থেকে আমাদের জীবিকা চলে। বন্ধ থাকা অবস্থায় সরকার যে সহযোগিতা করে তা আমাদের অব্দি যদি পৌঁছাত তাহলে আমাদের এই কষ্টটা থাকতো না।

অন্যদিকে পুরো সুন্দরবন বন্ধ থাকলেও, করমজল খোলা রাখায় খোব প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

রিয়াদ হোসেন নামে শরণখোলা বলেশ্বর পাড়ের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সুন্দরবনের সব এলাকা বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু করমজল কেন খোলা রেখেছে। তাহলে এটি কি সুন্দরবনের বাইরের অংশ, এখানে কি কোন গাছ, বন্য প্রাণী বা মাছ নেই। এক বনে কেন দুই রকম নীতি থাকবে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি হরিণ, বানর, কুমির, গুইশাপসহ ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং বিভিন্ন প্রকার মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী, ২৯০ প্রজাতির পাখি ও ৩৪৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

এর মধ্যে মধ্যে দুই প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি এবং পাঁচ প্রজাতির স্তন্যপায়ী বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দর্শনার্থীদের ভিড়, বনজীবিদের কর্মযজ্ঞ ও চোরা শিকারীদের দাপটে আরও বেশি সংকটে পড়ে এসব প্রাণ-প্রকৃতি।

সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে ১৪টি পযটন কেন্দ্র রয়েছে যেখানে প্রতিবছর কয়েকলক্ষ মানুষ ভ্রমন করেন। এছাড়া বন বিভাগকে নির্দিষ্ট পরিমান ফি দিয়ে বছরের বিভিন্ন সময় অর্ধলক্ষ বনজীবি মাছ, গোলপাতা ও মধু আহরণ করে থাকেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের বেশির ভাগ বন্য প্রাণি ও জলজ্ব প্রাণির প্রজনন মৌসুম। পাশাপাশি প্রচুর চারা গজায় এ সময়।

এজন্য তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের সজিবতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রথমবারের মতো এবছর শুধুমাত্র করমজল দর্শনা তিদের জন্য খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন