

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘরে ঢুকে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার বন্ধন ছাড়াতে উভয়কেই পুলিশের বেধড়ক পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজনের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে প্রচন্ড পিটুনিতে অজ্ঞান হয়ে পড়া প্রেমিকের মৃত্যুর গুজবে এলাকাবাসী পুলিশ বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর ও পুলিশকে ধাওয়া দেয়।
এসময় দুই পুলিশসহ ৪জন আহত হয়। ঘটনার পর রাতে থানার এসআই আরকানুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৬টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এদিকে থানা পুলিশের বাড়াবাড়ি নিরপেক্ষভাবে তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণী চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী গ্রামের নুরুল আমিনের (২৪) সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন। নুরুল আমিনের মা বলেন, 'মেয়ের মা ও বাবা শুক্রবার আমার বাড়িতে এসেছিলেন। উভয় পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত মেয়েপক্ষের কয়েকজনের পছন্দ না হওয়ায় তারা চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।'
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে চকরিয়া থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করতে নুরুল আমিনের বাড়িতে যায়। কিন্তু তরুণীটি কোনোভাবেই পুলিশের সাথে থানায় যেতে রাজি হয়নি। তরুনীকে উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ার খবর পেয়ে থানা থেকে এসআই আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করার চেষ্টাকালে তরুণী তার প্রেমিককে জড়িয়ে ধরে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ উভয়কেই পেটানো শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রেমিক নুরুল আমিন প্রকাশ গুরা মিয়া বেহুশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তার মৃত্যু গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ব্যাপক উত্তেজনার মাঝে এলাকাবাসী পুলিশ বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর ও পুলিশকে ধাওয়া দেয়।
খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে নুরুল আমিনের পরিবারের দাবি গুরুতর আহত নুরুল আমিনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে প্রেমিক-প্রেমিকাকে থানার এসআই কর্তৃক প্রকাশ্যে বেধড়ক পেটানোর একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে এক প্রশ্নকারীর জবাবে ওই ভাইরাল ভিডিওর কমেন্টে "OC Chakaria" নামের পেইজ থেকে - "অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ভিকটিমকে ছুরি হাতে জিম্মি করে রেখেছ আসামি। ভিকটিমকে উদ্ধার না করে পুলিশ ফিরে আসলে ভালো হতো?" বলে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়।
এছাড়া ভিডিওতে পুলিশের চরম বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হওয়া ও রাতে ১০/১২ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়েরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মীর মোশাররফ হোসেন টিটুসহ অনেক নেটিজেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ জানান, একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে এবং দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, ভিকটিম উদ্ধারের এই অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি বা দোষত্রুটি প্রমাণিত হলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার পর চকরিয়া থানার এসআই আরকানুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কক্সবাজার পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।