শুক্রবার
২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামে কোরবানির গোশত পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম উৎকুলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। গ্রামের কোনো পরিবার যেন কোরবানির গোশত থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে গ্রামের মানুষ সম্মিলিতভাবে কোরবানির গোশত সংগ্রহ ও বণ্টনের একটি অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। এতে গ্রামের ধনী, গরিব ও মধ্যবিত্তসহ প্রতিটি পরিবারই কোরবানির গোশত পেয়ে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, কোরবানির দিন গ্রামের যারা পশু কোরবানি দেন, তারা নিজেদের কোরবানির গোশতের একটি অংশ নির্ধারিত স্থানে নিয়ে জমা করেন। পরে গ্রামের স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী হিসাব করে প্রতিটি বাড়িতে সমানভাবে গোশত পৌঁছে দেন। এতে কেউ বাদ পড়ে না এবং গ্রামের সব মানুষই কোরবানির আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও একই পদ্ধতিতে গ্রামের প্রতিটি পরিবারের কাছে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকেই গ্রামের তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরা গোশত সংগ্রহ, ওজন এবং প্যাকেট তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব গোশত পৌঁছে দেওয়া হয়।

কোরবানি দাতা মোল্লা মারুফুল হক বলেন, আমি প্রতিবছর কোরবানি দিই। আগে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গোশত বিলি করতাম। কিন্তু তখন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার কোরবানির গোশত পেত না। তারা কারও কাছে চাইতেও পারত না। কয়েক বছর ধরে আমরা সবাই মিলে এই পদ্ধতি চালু করেছি। এখন গ্রামের সবাই কোরবানির গোশত খেতে পারে। এতে ঈদের আনন্দও সবাই মিলে ভাগাভাগি করা যায়।

গ্রামের বাসিন্দা শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রায় ৫-৬ বছর ধরে এই উদ্যোগ চালিয়ে আসছি। অনেক সময় দেখা যায়, গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কোথাও গোশত আনতে যায় না। আবার কেউ কেউ সংকোচের কারণে চাইলেও বলতে পারে না। ফলে তারা কোরবানির গোশত থেকে বঞ্চিত হয়। সেই চিন্তা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। এখন আমরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে গোশত পৌঁছে দিচ্ছি।

আরেক বাসিন্দা শেখ টুকু মিয়া বলেন, আমাদের এই উদ্যোগ গ্রহণের পর গ্রামের সবাই কোরবানির মাংস পাচ্ছে। শুধু আমাদের গ্রাম নয়, আমাদের দেখে আশপাশের অনেক গ্রামেও একই পদ্ধতি চালু হয়েছে। যদি প্রতিটি গ্রামে এমন ব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে কোরবানির সময় কেউ মাংস থেকে বঞ্চিত হবে না।

স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু কোরবানির গোশত বণ্টনই নয়, গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধও আরও শক্তিশালী হয়েছে। কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ত্যাগ, সাম্য ও ভাগাভাগির চর্চা এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন