বৃহস্পতিবার
২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনা পাড়ে মানুষের ঢল: ষাটনল ও হার্ডপয়েন্ট এখন ‘মিনি কক্সবাজার’

মমিনুল ইসলাম, মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ঈদের আনন্দে মুখর মেঘনা পাড়
expand
ঈদের আনন্দে মুখর মেঘনা পাড়

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ এলাকার হার্ডপয়েন্ট ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে নেমেছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন মেঘনা নদীর পাড়ে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, নদীর বিশাল জলরাশি আর খোলা বাতাসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সকাল থেকে গভীর সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিন বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, এখলাছপুর নয়াকান্দি হার্ডপয়েন্ট, মোহনপুর ও আমিরাবাদ মেঘনা নদীর তীরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা বয়সী মানুষ ঘুরতে এসেছেন এখানে।

প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যান, নছিমন, ভটভটি এমনকি ট্রলার ও নৌকাযোগেও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে দেখা গেছে। ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয়দের ভাষায়, মতলবের মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিতি পাওয়া এই মেঘনা পাড় এখন ঈদ বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামনে বিস্তীর্ণ মেঘনা নদী, বিকেলের সূর্যাস্ত আর নদীর বুকে দুলতে থাকা নৌকার দৃশ্য দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

জানা গেছে, নদীভাঙন রোধে মতলব উত্তরের এখলাছপুর, মোহনপুর ও আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ রক্ষায় ব্লক বসিয়ে হার্ডপয়েন্ট ও গ্রোয়েন নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই নদী রক্ষা প্রকল্পই এখন রূপ নিয়েছে জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে।

ঈদের ছুটিতে মেঘনা পাড় ঘিরে জমে ওঠে অস্থায়ী দোকানপাটও। ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিম ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকানে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি দোকানিরাও।

এদিকে অনেক তরুণকে ট্রলারে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে গান গেয়ে আনন্দ করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ নদীর বুকে ট্রলার ভাড়া করে মেঘনা-পদ্মা পাড়ের বিভিন্ন চরেও ঘুরে বেড়িয়েছেন।

এখলাছপুর নয়াকান্দি হার্ডপয়েন্ট ও ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা প্রস্তুত রেখেছিলেন মাঝিরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আনন্দে ভাটা পড়েনি কারও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত মানুষের সমাগম হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা কিংবা শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পরও অনেককে গ্রোয়েন ও হার্ডপয়েন্টে বসে থাকতে দেখা গেছে। তারা সেখানে সোলার বাতি স্থাপন, নিরাপত্তা টহল ও পর্যটনবান্ধব সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে মতলব উত্তরের মেঘনা পাড় ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র শুধু চাঁদপুর নয়, পুরো দেশের অন্যতম নদীকেন্দ্রিক পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

দর্শনার্থী হাসিবুর রহমান শান্ত বলেন, মেঘনার এই প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। সন্ধ্যার সময় সূর্যাস্তের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। পরিবার নিয়ে এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে।

আরেক দর্শনার্থী সুমাইয়া আক্তার তাবাসুম বলেন, এত সুন্দর খোলামেলা জায়গা আশেপাশে খুব কমই আছে। তবে নিরাপত্তার জন্য এখানে পুলিশ মোতায়েন দরকার। জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলেও দর্শনার্থী আরও বাড়বে।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মেঘনা পাড় ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে এখানে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে পর্যটন কেন্দ্রটির উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বসার স্থান, সোলার লাইট, পার্কিং ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে ষাটনল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় নদীভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন