মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, পশু ওঠা-নামাও লাগছে টাকা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি কোরবানির পশুর হাট
expand
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি কোরবানির পশুর হাট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি কোরবানির পশুর হাটে নির্ধারিত হাসিলের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। হাসিলের বাইরেও গরু ওঠানো-নামানোর জন্যও বেপারী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে হাটের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। এতে হাটগুলোর ইজারা দেওয়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতা ও বেপারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

যদিও প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে তারা অভিযান চালাবেন এবং অভিযুক্ত ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ওরিয়ন পাওয়ার-প্ল্যান্ট সংলগ্ন মামুন সাহেবের নিজস্ব বালুর মাঠের ইজারাদার ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল ইসলাম লাভলু, গোগনগর ইউনিয়নের আওয়ালের গুদারাঘাট সংলগ্ন খালি জায়গার ইজারাদার লিটন মিয়া এবং ডিক্রিরচর খেয়াঘাট সংলগ্ন বালুর মাঠের ইজারাদার আব্দুর রহমান হাটগুলোতে নির্ধারিত হাসিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নিয়ম অনুযায়ী বিক্রিত পশুর দামের বিপরীতে ৫ শতাংশ হাসিল আদায়ের কথা থাকলেও তারা আদায় করছেন ৬ শতাংশেরও বেশি।

এছাড়া হাটে পশুর প্রবেশ ও বিক্রির পর তা গাড়িতে তুলতেও অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করছেন হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

সদর উপজেলা ছাড়াও আরও কয়েকটি হাটে হাসিলের নির্ধারিত টাকার চেয়েও অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। ফলে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাশীপুরের পাওয়ার-প্ল্যান্ট সংলগ্ন হাটের ইজারাদার বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম লাভলুর মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “দুর্গম এলাকার হাট হলে ৬ শতাংশ পর্যন্ত হাসিল নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সদর উপজেলার হাটগুলোতে আমরা ৫ শতাংশ হারে হাসিল গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছি। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন