সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুরে বুলডোজার চালিয়ে র‍্যাব ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিলো সন্ত্রাসীরা

সীতাকুণ্ড (উপজেলার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি
expand
রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও ভয়াবহ সন্ত্রাসী তৎপরতার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) দিবাগত গভীর রাতে আলীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের পাশাপাশি এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করতে চারটি সড়ক কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উদ্বোধনের কথা ছিল আলীনগরের এই ক্যাম্পটি। তবে উদ্বোধনের আগেই সন্ত্রাসীরা ডাম্পট্রাক ও বুলডোজার ব্যবহার করে সলিমপুরে প্রবেশের প্রধান সড়কসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে দেয়, ফলে এলাকায় প্রবেশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র বলছে, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সন্ত্রাসীরা আলীনগর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং দায়িত্বরত র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা তৎপরতার মুখে তারা পালিয়ে যায়। হামলায় ক্যাম্পটির প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন হামলা ও সড়ক বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটল। সচেতন মহলের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি। একদিনে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সন্ত্রাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে।

তিনি জানান, অভিযানে ডাম্পট্রাক, ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযান চলছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভৌগলিক কারণে সন্ত্রাসীরা এখানে সহজে আত্মগোপন করতে পারে এবং তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ ছিল।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর না হলে অভিযান পরিচালনায় বাধা থাকবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন