

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নাটোর-এ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহ।
শুক্রবার (১৫ মে) থেকে জেলার বিভিন্ন বাগানে গুটি ও ˆবশাখী জাতের আম পাড়া শুরু করেছেন চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়া ও বাম্পার ফলনের কারণে এবার জেলায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ ও বাগান মালিকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাটোর জেলায় ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন| গত বছর জেলায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হলেও এবার তা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন আম বাগানে এখন চলছে আম সংগ্রহের ব্যস্ততা। সকাল থেকেই শ্রমিকদের হাঁকডাক, গাছ থেকে আম নামানো, বাছাই ও বাজারজাত করার প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে উঠেছে বাগানগুলো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, গত মৌসুমে নাটোরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হয়েছিল। তবে এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় সেই পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে| তিনি আরও জানান, আম উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নাটোরের পরিচিতি ˆতরি হয়েছে।
সদর উপজেলার বাগান মালিক ইউসুফ আহমেদ জানান, “এ বছর আমার বাগানে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৮০টি আম গাছ রয়েছে। আজ থেকে গুটি ও ˆবশাখী জাতের আম সংগ্রহ শুরু করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারে দাম ভালো পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।”
আম চাষিরা বলছেন, সময়মতো বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আমের গুটি ঝরা কম হয়েছে। ফলে গাছে আমের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে তাদের মধ্যে।
নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনেই আম সংগ্রহ করছেন চাষিরা। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে গোপালভোগ, ৩০ মে ক্ষীরশাপাত, ৫ জুন লক্ষণভোগ, ১৫ জুন ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন মোহনভোগ ও হাড়িভাঙ্গা, ৩০ জুন ফজলি, ৫ জুলাই মল্লিকা, ১৫ জুলাই বারি-৪, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আম সংগ্রহ করলে ভোক্তারা নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাবেন। একই সঙ্গে ফলের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ও পরিবহনে কোনো বাধা না থাকে, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।”