

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় চার বছর আগে নির্মাণ করা হয় দুইতলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন। ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য- ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য নির্মাণ করা হয়নি কোনো সিঁড়ি। ফলে দোতলার কক্ষগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। আর নিচতলার কক্ষগুলোতেই গাদাগাদি করে চলছে পাঠদান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি নির্মাণে চার দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
তবে ভবনের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দ্বিতীয় তলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে উপরের তলার শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে বর্তমানে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে আলাদা শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে এক শ্রেণির শব্দ অন্য শ্রেণিতে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সবুজ মণ্ডল জানায়, নতুন ভবনের কক্ষ ব্যবহার করতে না পারায় তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো বসার সুযোগও মেলে না।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মণ্ডল বলে, “আমাদের বিদ্যালয়ে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি না থাকায় এক কক্ষে গাদাগাদি করে বসতে হয়। এক শ্রেণিকক্ষের শব্দ অন্য শ্রেণিতে চলে আসে। ফলে আমরা ঠিকভাবে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারি না।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু শ্রেণিকক্ষ সংকটই নয়, বিদ্যালয়ে সুপেয় পানিরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন না করে অর্থের অপচয় করা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ধাপে ধাপে বরাদ্দ নেওয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। এককালীন বরাদ্দ হলে হয়তো এ সমস্যা হতো না। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; সেটি যেন পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।