

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া, লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়া এবং ট্রান্সফরমার ও মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার দক্ষিণাঞ্চলে। পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ছয়টি উপজেলায় গত দুই দিনে ৭১টি খুঁটি ভেঙে গেছে। প্রায় ১ হাজার ২৫টি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৫৫০টি মিটার নষ্ট হয়েছে। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ঝড় থামার পর থেকেই মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, কয়েক দিন আগেই সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে ঝড়ে আবার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
এদিকে সমিতি-১-এর আওতাধীন চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। মঙ্গলবার সকালে ঝড়ের পর এসব এলাকায় প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিকেলে জাতীয় গ্রিডের সংযোগ মেরামতের পর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে। মাঠপর্যায়ে টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক ও বিদ্যুৎ লাইনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সেগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাত ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
মন্তব্য করুন