

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরিত্যক্ত জমিতে কোদাল দিয়ে সুপারি বাগান লাগানোর কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় মাটির একফুট নিচে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই শব্দ হয়। পরে মাটি খুড়তেই তাদের কোদালে উঠে আসে একটি মর্টার শেল। পরে সেটিকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে মাটি ও মরিচা পরিস্কার করেন তারা।
পরে বাসায় নিয়ে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে রাখা হয়। এক পর্যায়ে বস্তুটি কি তা জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন জমির মালিক হোসেন আলী ও তার ছেলে সোহান। পরে সদর থানা পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টালশেলটি উদ্ধার করে ঘিরে রাখে। মরিচা পড়ায় মর্টার শেলটি কত আগে তৈরী এর কোন সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার পশ্চিম জালাসী এলাকায় ঘটে এই ঘটনাটি।
তবে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধদের দাবি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জালাসি এলাকায় খান সেনারা একাধিক মর্টারশেল নিক্ষেপ করেন। সে সময় বেশ কয়েকটি মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়। হয়তো সে সময় এটি বিস্ফোরিত হয়নি। যে স্থানে মর্টার শেলটি পড়েছিল সেটি গর্ত হয়ে এখনো রয়েছে।
জমির মালিক হোসেন আলী বলেন, আমার এই জমিটি অনেকদিন ধরে পড়েছিল। পরে এটি নালা করে সুপারি বাগান লাগানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করি। আজকে কাজ করার সময় শ্রমিকদের কোদালে একটি লোহার টুকরা উঠে আসে। আমি তো ওইটি কে চিনি না আসলে কি পরে তারা বাসায় নিয়ে যায়। পরে আমার জামাতাকে ফোন দিয়ে জানতে পারি এটি বোম। পরে পুলিশের হাতে আমরা হস্তান্তর করি।
শ্রমিক জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা হোসেন আলী চাচার জমিতে সুপারির বাগান লাগানোর কাজ করছিলাম। একপর্যায়ে আমি মাটিতে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই আওয়াজ হয়। পরে দেখতে পাই লোহার মত একটি দন্ড। পরে এটিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধুয়ে এদিকে পরিষ্কার করার সময় একটুবারুদের গন্ধ বের হয়। এটি কি আসলে আমি জানিনা তবে শুনেছি বোমার মত জিনিস।
সমর আলী নামে ষাটোর্ধ্ব এক শ্রমিক বলেন, আমরা চারজন মিলে জমিতে কাজ করছিলাম। তখন আমার ছেলের কোদালের কোপে একটি দণ্ড বের হয়ে আসে। আমি প্রথমেই এটাকে দেখে চিনতে পেরে বোম হিসেবে তাদেরকে জানাই। কেননা আমাদের এলাকায় যুদ্ধের সময় এই একই জায়গায় তিনটি বোম পড়েছিল। আমার তখন স্পষ্ট মনে আছে আমরা এই এলাকা দিয়ে তখন হাটাহাটি করতাম।
মর্টার শেল দেখতে আসা সাখাওয়াত উল্লাহ শাহীন বলেন, আমি দোকানে ছিলাম, পরে জানতে পারি আমাদের তাই একটি মর্টারশেল পাওয়া গেছে জমিতে কাজ করার সময়। পুলিশের সদস্যরা এসে এটিকে ঘিরে রাখে। আমি আগে কখনো মোটাশীল দেখিনি এই প্রথম দেখলাম।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, আসলে বস্তুটি মর্টারশেলের সদৃশ। তবে আমরা এখনো বিস্তারিত বলতি পারছিনা কবে তৈরী করা হয়েছে, কোথায় ব্যবহার করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এটি। আমরা এটিকে সংরক্ষণ করবো। পরে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে।
মন্তব্য করুন