

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হজের সময় নারীদের পর্দা করা বাধ্যতামূলক কি না—এ নিয়ে মুসলিম সমাজে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হজেও নারীদের শালীনতা ও পর্দা বজায় রাখা অপরিহার্য, তবে ইহরাম অবস্থায় এ বিষয়ে কিছু বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য।
আলেমদের মতে, নারীদের জন্য হজ ও ওমরায় নির্দিষ্ট কোনো পোশাক বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তারা যেকোনো শালীন ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে পারবেন, যাতে শরীর সঠিকভাবে আবৃত থাকে এবং দৃষ্টি আকর্ষণের আশঙ্কা না থাকে।
তবে হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ইহরাম’ অবস্থায় নারীদের জন্য একটি বিশেষ বিধান রয়েছে। এ সময় সরাসরি মুখে লাগানো নেকাব বা গ্লাভস পরা নিষিদ্ধ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তারা সম্পূর্ণভাবে পর্দাহীন থাকবেন। বরং গায়রে মাহরাম (অপরিচিত পুরুষ) সামনে এলে তারা মাথার কাপড় দিয়ে মুখ আড়াল করতে পারবেন।
ইসলামিক আলোচকদের মতে, হজে নারীদের পর্দা উঠে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। ইহরামের সময়েও নারীদের শালীনতা বজায় রাখা এবং পর্দা করা জরুরি। বিশেষ করে গায়রে মাহরামের সামনে মুখ খোলা রাখা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
হাদিসের বর্ণনায়ও দেখা যায়, সাহাবি নারীরা হজের সময় ইহরাম অবস্থায় থাকলেও অপরিচিত পুরুষ সামনে এলে নিজেদের চেহারা কাপড় দিয়ে ঢেকে নিতেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তা সরিয়ে ফেলতেন।
হজের সময় নারীদের পর্দা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং শালীন পোশাক ও পর্দা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, শুধু ইহরামের কারণে মুখ ঢাকার পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা আসে।
হাদিসের আলোকে নির্দেশনা
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُحْرِمَاتٌ، فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا، فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ.
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) -এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। পথচারীরা যখন আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন আমরা আমাদের চাদর মাথা থেকে সামনে ঝুলিয়ে মুখ ঢেকে নিতাম। তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিতাম।’ (আবু দাউদ ১৮৩৩)
মন্তব্য করুন
