রবিবার
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দু‘পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১৮

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দু‘পক্ষের সংঘর্ষ
expand
পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দু‘পক্ষের সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সম্প্রতি মসজিদের একটি বিবাদমান পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল। আর এ বিরোধ নিয়ে মসজিদ কমিটি মানববন্ধন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত প্রায় ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার দুপুরে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী গ্রামে। বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার গাবরগাড়ী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে জনা বিশেক লোকজন গাবরগাড়ী গ্রামে অবস্থিত মসজিদের পুকুর থেকে মাছ ধরতে থাকেন। আর মাছ ধরার খবর পেয়ে মসজিদ কমিটির লোকজন পুকুর পাড়ে গিয়ে মাছ ধরতে আসা লোকজনকে মসজিদ কর্তৃক চাষ করা পুকুরে মাছ ধরতে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা এ নিষেধ না শুনে দেশিয় অস্ত্র লাঠি-সোঠা, রডসহ হামলা করতে যায় এবং বিভিন্নভাবে শাসান। পরে মসজিদ কমিটির পক্ষে থেকে জরিরু সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা মাছ ধরে নিয়ে যান।

আর মসজিদ কমিটি কর্তৃক চাষ করা মাছ জোর পূর্বক ধরায় ওই রাতেই মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আলতাফ হোসেন তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি পূর্বের সিদ্ধান্ত মত আব্দুর রাজ্জাকগং জোর পূর্বক মাছ ধরার প্রতিবাদে গ্রামেই রোববার দুপুরের দিকে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী। এ সময় আব্দুর রাজ্জকগং এর নেতৃত্বে তাদের লোকজন মানববন্ধন স্থলে গিয়ে মানববন্ধন বন্ধ করার জন্য বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্য্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন।

আর ঘন্টাকাল ব্যাপী সংঘর্ষে মো. ইদ্রিস হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, জফের হোসেন, মোছা. লিপি খাতুন, মো. শরিফুল ইসলাম, মো.আসাদুল ইসলাম, মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. সুলতান, এনামুল হক, নাজমুল হোসেন, আব্দুল মজিদ, আব্দুস সালামসহ উভয় পক্ষের অনন্ত ১৮ জন গুরুত্ব আহত হন।

গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আলতাফ হোসেন বলেন, মসজিদ কমিটি পুকুরে মাছ আবাদ করেছেন। মাছ বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়ন করা হয়। কিন্তু এনামুল ও রাজ্জাকের লোকজন ক্ষমতার দাপটে মাছ বিক্রি করে পকেটস্ত করছে। যা অন্যায়। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাকগংরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করেন। শুধু তাই নয় অনেক জনের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে তারা। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আহত লোকজনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার তদন্ত (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেচেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। এ ঘটনায় এখনও কোন পক্ষই মামলা করতে থানায় আসেনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন