

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরকে নির্যাতনের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান, ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং দুই পুলিশ কনস্টেবল মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউনুস ফকির পিরোজপুর পৌরসভার ০১ নং ওয়ার্ডের খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পুলিশ অফিসার্স মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার টাকা চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইউনুসকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং পাশাপাশি স্পর্শকাতর অঙ্গে মোমের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রথমে তাকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে এবং পরবর্তীতেও নির্যাতনের প্রকৃত ঘটনা গোপন রাখতে ইউনুসকে ভিন্ন বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হলে তিনি বিস্তারিত শুনে মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে এবং ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
ইউনুসের ভাতিজি মাহমুদা অভিযোগ করেন, ‘আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ আমাদের কথা শোনেননি। আমার চাচাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার পুরুষাঙ্গে পোড়ার আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। তবে আমি কোনো নির্যাতন করিনি। আমাদের এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমবাতি দিয়ে এ কাজ করেছে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনুসের চিকিৎসার সব ব্যয় জেলা পুলিশ বহন করবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন