

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাছ থেকে পেড়ে নয়, মাটিতে পড়ে থাকা আম কুড়াতে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) এক নেতার এলোপাথাড়ি মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই শিশু।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে গণঅধিকার পরিষদের ০৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ইমাম মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে।
আহত দুই শিশু হলো দশমিনা পাইলট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আশিক মোল্লা (১০) এবং দশমিনা পাবলিক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জুবায়ের মোল্লা (৮)। দুজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন দুই শিশু বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে বেরিয়েছিল। একপর্যায়ে তারা ইমাম মোল্লার আমগাছের নিচে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা আম কুড়াতে শুরু করে।
স্থানীয়রা জানান, এ সময় ইমাম মোল্লা এসে হঠাৎ আশিককে এলোপাতাড়ি লাথি ও ঘুষি মারতে থাকেন। বুকে লাথি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছেলেটি। এরপর একইভাবে মার পড়ে জুবায়েরের ওপরও।
চিৎকার শুনে ছুটে আসেন শিশুদের বড় বোন ও দাদি। কিন্তু তাঁরাও রেহাই পাননি তাঁদেরও ধাক্কা দেওয়া ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
মারের পর দুই শিশু অচেতন হওয়ার উপক্রম হলে অভিযুক্ত তাদের পাশের একটি দোকানে আটকে রাখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আশিকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আশিক বলে, 'আমি আম পাড়তে যাইনি, পড়ে থাকা আম কুড়াতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ ইমাম কাকা এসে মারতে শুরু করেন। বুকে লাথি মারলে আমি পড়ে যাই।'
জুবায়েরও বলে, 'আমরা চুরি করিনি, শুধু পড়ে থাকা আম কুড়িয়েছিলাম।'
আশিকের বাবা মনির হোসেন বলেন, 'একটা সামান্য আমের জন্য একজন পঞ্চান্ন বছরের মানুষ শিশুদের এভাবে মারতে পারে ভাবতেই পারছি না। সুষ্ঠু বিচার চাই।'
জুবায়েরের বাবা জুলহাস মোল্লা বলেন, 'বিচার না হলে আমরা নিরাপদ নই।'
অভিযুক্তের ভাতিজা আল-আমিন মোল্লা বলেন, 'চাচা যা করেছেন তা সম্পূর্ণ অন্যায়। শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
অভিযুক্ত ইমাম মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাহ আলম বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে দুঃখজনক। খোঁজ খবর নিচ্ছি, সত্যতা পেলে বহিষ্কার করা হবে।
দশমিনা থানার ওসি (তদন্ত) ইমাম মেহেদী বলেন, 'এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মন্তব্য করুন