

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটি তোলার পর এখন পর্যন্ত সেখান থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট ১৬টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানির নিচে থাকা বাসটি উত্তোলন করা হলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করতে থাকে।
এর আগে, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস নদীতে পড়ে যায়। যদিও দুর্ঘটনার সময়ের পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ২ নম্বর ঘাটেই অবস্থান করছিল, যা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে। কিন্তু সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়। এরপর জাহাজটির অবস্থান নির্ধারণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে আরও এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত থাকে। রাত ৯টার দিকে বৃষ্টি থামার পর পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঘটনার দিনও একই সময় বাসটি যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এতে যোগ দেয়।
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী কাউন্টার মাস্টার তন্ময় শেখ জানান, বাসটি কুমারখালী থেকে ৬ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। পথে খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন যাত্রী ওঠেন। এছাড়া ইঞ্জিন কভারের ওপরও ৪ জন যাত্রী ছিলেন। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থেকেও কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীসহ বাসটিতে অন্তত ৫০ জন ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বাসটির আসনসংখ্যা ৪৫ হলেও যাত্রীসংখ্যা ছিল বেশি। তবে ফেরিতে ওঠার সময় কিছু যাত্রী নেমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সময় সঠিক কতজন বাসে ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, বিকাল ৫টার কিছু পর বাসটি ৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছে। সে সময় একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বাসটি ওই ফেরিতে উঠতে না পেরে অপেক্ষা করছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি এসে পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় কিছু যাত্রী বাস থেকে নেমে গিয়েছিলেন এবং কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এখন পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নুসরাত (২৯) নামে এক নারী, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক, বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন