মঙ্গলবার
২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 শিবচরের পদ্মা নদী বাঁধে নাগরিক বিনোদনের নতুন দিগন্ত

​ মো. সিরাজুল ইসলাম, শিবচর (মাদারীপুর) থেকে
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
পদ্মা নদী বাঁধে নাগরিক বিনোদনের নতুন দিগন্ত
expand
পদ্মা নদী বাঁধে নাগরিক বিনোদনের নতুন দিগন্ত

প্রমত্তা পদ্মা এখন আর কেবল উত্তাল ঢেউয়ের গর্জন নয়, বরং তপ্ত দুপুরে নদীর বুক চিরে আসা পুবালী বাতাস পর্যটকদের মনে বুলিয়ে দেয় এক চিলতে শীতল পরশ, আর গোধূলি বেলার স্নিগ্ধ আবেশ।

পদ্মা সেতু নির্মাণের অনুষঙ্গ হিসেবে শিবচরের কাওড়াকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত যে নদী শাসন বাঁধ নির্মিত হয়েছে, তা আজ রূপ নিয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের এক অনন্য স্বর্গরাজ্যে। যেখানে আকাশের নীল আর পদ্মার জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, সেখানেই এখন ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে (২৩ মার্চ) দেখা যায়, ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে মানুষ এখন ছুটে আসছে পদ্মার তীরে। উপজেলার কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত এই নদীবাঁধ যেন এক বিশাল মিলনমেলা।

নদীর বুকে জেলেদের নৌকা বেয়ে চলা, রূপালি ইলিশের ঝিলিক আর তীরের ব্লকে আছড়ে পড়া ছোট ছোট ঢেউ—সব মিলিয়ে এক জীবন্ত ক্যানভাস। দর্শনার্থীরা কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে হাঁটছেন, কেউবা হাঁটু জলে পা ভিজিয়ে খুঁজছেন হারানো শৈশব।

​​বিকেলের সূর্য যখন রক্তিম আভা ছড়িয়ে পদ্মার বুকে মুখ লুকায়, তখন এই বাঁধের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই যখন পদ্মা সেতুর ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় যেন নদীর ওপর এক দীর্ঘ নক্ষত্রমালা নেমে এসেছে। সেতুর সেই অপার্থিব আলো দেখতে গভীর রাত পর্যন্ত বাঁধে ভিড় জমান মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় খাবারের দোকান। চটপটি-ফুচকার পাশাপাশি ভাজা ইলিশের ম ম ঘ্রাণ ভোজন রসিকদের টেনে আনছে অনায়াসেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, এখানে ঘুরতে আসা মানুষের প্রধান আকর্ষণই হলো পদ্মার টাটকা ইলিশ ভাজা। অন্যদিকে, বাঁধের ব্লকের ওপর শিশুদের ছোটাছুটি আর আনন্দ-কোলাহল পুরো পরিবেশকে করে তুলছে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

​​শিবচরের বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের লপ্ত সরকারের চর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শান্তা ইসলামের কণ্ঠে ছিল তৃপ্তির সুর। তিনি বলেন, "আমাদের এলাকায় বিনোদনের জায়গার বড্ড অভাব। পদ্মার এই বিশালতা আর শীতল বাতাস আমাদের প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। গত কয়েক বছর ধরে যেকোনো ছুটিতে আমাদের প্রথম পছন্দ এই নদীবাঁধ।"

আরেক দর্শনার্থী বর্ষা আক্তারের মতে, এখানকার মূল আকর্ষণ হলো বাঁধের ব্লক আর পদ্মার স্বচ্ছ জল। উন্মুক্ত আকাশের নিচে এমন নির্মল বাতাস যেন নাগরিক জীবনের সমস্ত বিষাদ ধুয়ে মুছে দেয়।

​​শিবচরের চরশ্যামাইল থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী অনিক হাসান পিয়াস বলেন, "পদ্মা তীরের এই মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও নির্মল পরিবেশ অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

এখানে যদি সুপরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করে সবুজের সমারোহ ঘটানো যায়, তবে এটি প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখানে দ্রুত বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।"

​এ প্রসঙ্গে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান বর্ষা মৌসুমেই ওই এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এটি একদিকে যেমন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন