

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সমুদ্রের ঢেউ এখনও একই ছন্দে আছড়ে পড়ছে। তবে বদলে গেছে সৈকতের আবহ। কেননা, দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ছুটিও। আর সেই ছুটিকে ঘিরে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায় এখন ব্যস্ততার শেষ নেই কোথাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেট স্কি চালক থেকে বিচ বাইক মালিক, ঘোড়াওয়ালা, ফটোগ্রাফার; সবাই প্রস্তুত। পাশাপাশি শামুক-ঝিনুক, বার্মিজ পণ্য আর আচারের দোকানগুলোও নতুন সাজে সেজেছে।
ফটোগ্রাফার আব্দুস সবুর জানান, রমজানজুড়ে পর্যটক কম থাকায় কাজ তেমন হয়নি। তবে ঈদ ঘিরে ভিড় বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে কাজের সুযোগও। একই প্রত্যাশা কিটকট বিক্রেতা জমির উদ্দিনের।
সৈকতপাড়ের দোকানগুলোতেও প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট। আচারের দোকানদার মাহমুদুল হক সবুজ জানান, বার্মিজ আচার, চকলেটসহ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে নানা পণ্য এনে সাজানো হয়েছে দোকান।
লাবণী এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী জামশেদ আলম বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি দিয়ে দোকান সাজিয়েছি। পর্যটক বাড়লে বিক্রিও বাড়বে।’
শুধু সৈকত নয়, প্রস্তুত হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোও। কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক আবাসনকেন্দ্রের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৯ তারিখ থেকে পর্যটক আসা শুরু হবে, যা ঈদের মূল ভিড়ে ২৩ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত চূড়ায় পৌঁছাবে।
হোটেল কক্স-টুডের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে বুকিং বেশ ভালো। অন্যদিকে, রামাদা হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতেই এই আয়োজন।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ এলাকার হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের সংগঠনের এক নেতা জানান, টানা ছুটিতে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করতে পারেন। এতে পর্যটন খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। সৈকতজুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাক ও গোয়েন্দা টিম কাজ করছে ২৪ ঘণ্টা।
সমুদ্রসৈকতে দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড সদস্যরা বলছেন, ঈদের সময় সমুদ্র কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পয়েন্ট- লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী- ছাড়া অন্য কোথাও না নামার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে লাইফগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে কয়েক ডজন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, লক্ষ্য একটাই- কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন