

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে টানা ২৬ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পরিবেশ সংগঠক মাহবুবুল ইসলাম পলাশ। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা, সিরাজগঞ্জ আজ পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
পাঠশালাটিতে বর্তমানে বিপন্ন ও বিরল ৩৪৫ প্রজাতির পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছ সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের ২০ প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাখিদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে রয়েছে অসংখ্য ফলজ বৃক্ষ এবং একটি বিশেষ পুকুর, যেখানে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুকুরের মাছ কেবল দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মাহবুবুল ইসলাম পলাশ বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে মহাবিপন্ন ‘বৈলাম’ বৃক্ষের চারা বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। তাঁর এই প্রতীকী পরিবেশ যাত্রা উত্তরের সর্বশেষ জনপদ তেঁতুলিয়া থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণের শেষ প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেশের ভৌগোলিক বিস্তৃতিকে ধারণ করে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাট-বাজার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে সচেতনতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিনামূল্যে পাটের ব্যাগ বিতরণ করছেন।
গত ২৬ বছরে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০০টির বেশি পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ বিতরণ ও রোপণ করেছেন। এছাড়া নিজ উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে বিরল প্রজাতির বৃক্ষের বাগান স্থাপন করেছেন। তাঁর এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন লাখের বেশি মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসে নিয়মিতভাবে বৃক্ষ, লিফলেট ও সচেতনতামূলক উপকরণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত বাগানে গড়ে উঠেছে একটি পাখির অভয়ারণ্য, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞের সব ব্যয় তিনি নিজ অর্থায়নে বহন করে আসছেন। পরিবেশ রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কৃষি খাতে ও বৃক্ষরোপণে দুইবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ শতাধিক সম্মাননা পেয়েছেন।
মাহবুবুল ইসলাম পলাশ বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
পরিবেশবাদীদের মতে, তাঁর দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ আন্দোলনে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন