

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খেলনা হাতে দৌড়ানোর বয়স। কাঁধে স্কুলব্যাগ ঝুলিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে হাসতে ক্লাসে যাওয়ার কথা। অথচ ৯ বছরের শফিকুল ইসলাম এখন বিছানায় শুয়ে শ্বাস নিতেই লড়াই করছে। বুক ধড়ফড় করলে সে চুপ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে প্রশ্ন করে, “আমি কি আবার দৌড়াতে পারব? নাকি আমার সারা জীবনই বিছানায় শুয়ে কাটাতে হবে?”
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের এই শিশুর হৃদপিণ্ডে ধরা পড়েছে জটিল সমস্যা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার হার্টের একটি ভালভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভালভ পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও একই সিদ্ধান্ত জানানো হয়—অপারেশন ছাড়া বাঁচার আর কোনো পথ নেই।
চিকিৎসকদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতে হবে। আর সেই অপারেশনের খরচ প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের কাছে এই টাকাই এখন অদম্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শফিকুলের বাবা শেখ আব্দুল রশিদ নিজেও অসুস্থ। মেরুদণ্ডের হাড়ে গুরুতর সমস্যার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। দুই-একদিন কষ্ট করে কাজ করলেও অসহ্য ব্যথায় আবার বিছানায় পড়ে যেতে হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলেটা ছোট থেকেই একটু দুর্বল ছিল। ভাবছিলাম বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। এখন ডাক্তার বলছে অপারেশন করতে হবে। আমি বাবার জায়গা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু নিজের শরীরই তো ভালো না। ঠিকমতো কামাই করতে পারি না। চার লাখ টাকা কোথায় পাব?”
তিনি আরও জানান, একমাত্র সম্বল একটি গাভি গরুও ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন ঘরে আর কিছুই নেই।
মা আসমা বেগম কোলে এক বছরের ছোট মেয়ে ইসরাত জাহানকে নিয়ে ছেলের পাশে বসে থাকেন। তিনি বলেন, “বিয়ের দুই বছর পর শফিকুল আমাদের কোলজুড়ে আসে। তাকে ঘিরেই ছিল সব স্বপ্ন। এখন ডাক্তার বলছে অপারেশন না করলে দিন দিন অবস্থা খারাপ হবে। ছেলের চিকিৎসার টাকা কোথা থেকে আনব? মাঝে মাঝে শফিকুল জিজ্ঞেস করে, ‘মা, আমি কি আর স্কুলে যেতে পারব না?’ তখন বুকটা ফেটে যায়।”
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শফিকুল দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। সহপাঠীরা স্কুলে যায়, মাঠে খেলে—আর সে বিছানায় শুয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকে।
পাশের বাড়ির গৃহবধূ রিসমা বেগম বলেন, “রশিদের নিজের শরীরই ভালো না। দুই বেলা ঠিকমতো খাওয়াই কষ্ট। গরুটাও বিক্রি করে দিয়েছে। এই অবস্থায় চার লাখ টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে অসম্ভব।”
আরেক প্রতিবেশী রসুল শেখ বলেন, “আমরা সবাই মিলে কিছু সাহায্য করেছি, কিন্তু এত বড় টাকার জন্য এটা যথেষ্ট নয়। ছেলেটা খুব শান্ত। তাকে কষ্টে দেখলে মন ভেঙে যায়।”
স্থানীয় বৃদ্ধা শেখ সত্তার বলেন, “ছেলেটা ছোটবেলা থেকে সুস্থ ছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন অবস্থা হবে ভাবিনি। আল্লাহর দোহাই লাগে, যারা সামর্থ্যবান আছেন তারা যদি একটু করে এগিয়ে আসেন, তাহলে হয়তো ছেলেটা বাঁচবে।”
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার বলেন, “আমি তার রিপোর্ট দেখেছি। এখন যদি দ্রুত অপারেশন না করা হয়, তাহলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। হার্টের ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় প্রতিদিনই জটিলতা বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, শারীরিক অবস্থাও ততই নাজুক হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব অপারেশন করাতে হবে।”
(01737-397930-বিকাশ পারসোনাল) সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছেন শফিকুলের বাবা আব্দুল রশিদ।
মন্তব্য করুন
