শুক্রবার
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদার দাবিতে বিয়ে বাড়িতে হামলা, আহত ৩

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় বিয়ে বাড়ি।
expand
রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় বিয়ে বাড়ি।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বরের বাবা, ভাই ও জেঠাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন-ত্রিনাথ বিশ্বাস (৩২), বাবুলাল বিশ্বাস (৬০) ও বৃজন রানী (৪৫)। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন।

স্থানীয়রা জানান, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবু লাল বিশ্বাসের ছেলে সেম্বু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় পাশের এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মহন (২৫) এর নেতৃত্বে আল আমিনের ছেলে আরমান (১৮), বারেক বকাউলের ছেলে আবির হোসেন (১৬) ও জিসান (১৮)সহ কয়েকজন অনুষ্ঠানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা টাকা অংক ৩০ হাজার টাকায় নেমে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকপক্ষ তিন হাজার টাকা দিলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। একপর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে বরের পিতা বাবু লাল বিশ্বাস ও ভাই ত্রিনাদ বিশ্বাসকে মারধর করে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর ও আশেপাশে বাড়িরঘরে হামালা করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছিল, আমরা কেরাম খেলছিলাম। তখন কিশোর গ্যাং এসে হামলা চালায়। আমার গলার স্বর্ণের চেইন এবং ছোট ভাইয়ের গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রঘুনাথ বিশ্বাস বলেন, বিয়েবাড়িতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমরা তারাবির নামাজে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমিও পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের চাঁদাবাজি বা সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X