মঙ্গলবার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে হামলায় আহত তিন সাংবাদিক

জুলফিকার আলী ভুট্টো, চকরিয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
আহত দুই সাংবাদিক
expand
আহত দুই সাংবাদিক

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে হামলায় তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকেরা হলেন- কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদীর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশের চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক এবং দৈনিক সংবাদ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক। আহতদের মধ্যে ছোটনের মাথা, ইকবাল ফারুকের ডান হাতের পাতা ও জিয়াবুলের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়।

আহত সাংবাদিকেরা বলেন, উত্তর হারবাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তিন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। পরে ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় বালু উত্তোলনের শ্রমিকেরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বালু উত্তোলনের মূলহোতা নাজিম উদ্দিন। তিনি 'সব শালারে মাটিতে পুঁতে ফেল' বলে নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলা শুরু হয়। প্রথমে সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছড়ায় ফেলে পানিতে চুবিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর কয়েকজন সাংবাদিককে ৭-৮ জন ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এসময় ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে ছড়ার পানিতে চুবিয়ে ফেলে।

এতে ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। অন্য সাংবাদিক ইকবাল ফারুককে ডান হাতে কোপ দিলে হাতের তালু কেটে যায়।

আহত সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ছড়া থেকে তুলে একটি ঘরে আটকে রাখে। অন্তত তিনঘণ্টা পর আটটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের উদ্ধার করে লোহাগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে এবং মাথা ও হাতে সেলাই দেওয়া হয়।

ছোটন কান্তি নাথ আরও বলেন, সাংবাদিক জিয়াবুলের অবস্থা অতিরিক্ত খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। রাত ৪টার দিকে জিয়াবুলের হাতের অস্ত্রোপচার শেষ হয়।

চিকিৎসা শেষে আহত সাংবাদিকেরা বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি সোমবার জানাজানি হলে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের মুঠোফোনে দফায় দফায় ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি সোমবার বিকেলে জেনেছি। অবশ্যই হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে নাজিম উদ্দিনকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X