শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার অঙ্গীকার কৃষি মন্ত্রীর

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ
expand
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে বাকস্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ভিত্তিক অগ্রগতির বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পসহ সব খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার নেউরা এমআই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাস। এ অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ড. আখতার হামিদ খান। তাঁর উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আধুনিক সেচব্যবস্থা ও সমবায়ভিত্তিক কৃষি উন্নয়নের সেই ধারা নতুনভাবে জাগ্রত করতে সরকার কাজ করবে।

নিজের কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাঠের বাস্তবতা তিনি জানেন। কৃষকবান্ধব নীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লাসহ সারাদেশের কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা হবে। শিল্প ও কৃষির সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে কুমিল্লাকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কুমিল্লাকে ‘ব্যাংক টাউন’ ও শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি—কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পারে।

এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়। হাজী মো. জহিরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনির্মাতা। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশ পাবে যোগ্য, মানবিক ও দক্ষ প্রজন্ম।

তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। একটি সাধারণ স্কুলব্যাগও একজন শিক্ষার্থীর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের শিক্ষাখাতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি সময়ের দাবি। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য খাত দেশের অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করে উল্লেখ করে তিনি অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজী মো. জহিরুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X