

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে সাগর ও বনাঞ্চলের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন জেলেরা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় জেলে ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মানুষ। দ্রুত বনদস্যু দমন করা না হলে বন বিভাগ রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
দুবলারচরের শুটকি পল্লীর দশ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের চারদিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে জেলে ব্যবসায়ীরা।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মুঠোফোনে জানান, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলেরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে কয়েকটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন জেলেরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় আহত চার জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আলোরকোল এলাকায় অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, বনদস্যুদের তাণ্ডবে জেলেদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। গত ১৫ দিনে বহু জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কের কারণে জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস (অনুমতি) নিচ্ছেন না, যা মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
তবে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
মন্তব্য করুন
