

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও তার হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে ঝালকাঠিতে প্রদর্শনী, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’, হাদী সন্ধ্যা ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শহীদ ওসমান হাদীর জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে তুলে ধরে একটি জীবনীভিত্তিক প্রদর্শনীসহ নানা সাংস্কৃতিক ও স্মরণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জুলাই শহীদ কামালের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা। প্রদর্শনীতে শহীদ হাদীর বিভিন্ন সময়ের ছবি, লেখা ও আন্দোলনসংক্রান্ত দলিল প্রদর্শিত হলে দর্শনার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ শীর্ষক একটি ভ্যান র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ইনসাফ মঞ্চের সদস্যরা অংশ নেন। বিচারের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। র্যালিটি শেষে আবার শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদী স্মরণে অনুষ্ঠিত হয় ‘হাদী সন্ধ্যা’। এতে স্মারক প্রবন্ধ উপস্থাপন, স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদী কেবল একজন ব্যক্তি নন—তিনি ন্যায়, ইনসাফ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবিকতার প্রতীক। তার হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। বক্তারা আরও বলেন, শহীদ হাদীর রক্ত যেন বৃথা না যায়—ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শহীদ ওসমান হাদী। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবরস্থানের পাশে দাফন করা হয়।
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও সততার পক্ষে ছিল তার নির্ভীক অবস্থান। আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাই ছিল তার রাজনীতি। সেই রাজনীতিকে সাংগঠনিক রূপ দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইনকিলাব মঞ্চ। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গড়ে তোলেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, যেখান থেকে নিয়মিত প্রতিবাদী কর্মসূচি পরিচালিত হতো।
মন্তব্য করুন
