

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিওড়া কাজীবাড়ির তিনজন সদস্য রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন।
নিহতরা হলেন স্বামী–স্ত্রী ও তাঁদের দুই বছর বয়সী একমাত্র সন্তান। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও স্তব্ধতা।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন চিওড়া কাজীবাড়ির কাজী খোরশেদ আলমের ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাঁদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টায় চিওড়া কাজীবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ঢাকায় জানাজা শেষে শুক্রবার রাতেই লাশ কুমিল্লার নানুয়ার দীঘিরপাড়ের বাসায় আনা হয়। রাত ১০টায় দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজীবাড়িতে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ অসুস্থতায় ফজলে রাব্বির প্রথম স্ত্রী তিথীর মৃত্যু হয়। পরিবার ও আত্মীয়দের অনুরোধে তিনি পরে তিথীর বান্ধবী আফরোজা আক্তার সুবর্ণাকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় একমাত্র সন্তান রিশান।
ফজলে রাব্বির ফুপাতো ভাই কাজী নাহিদ বলেন, চিওড়া কাজীবাড়ি তাঁদের আদি নিবাস। কুমিল্লা শহরেও তাঁদের বাড়ি রয়েছে। ফজলে রাব্বি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনরা জানান, স্বামী–স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাঁদের দুই সন্তানই সাধারণত উত্তরায় নানির বাসায় থাকত। অফিস বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ছোট ছেলে রিশানকে নানির বাসা থেকে নিজের বাসায় নিয়ে যান ফজলে রাব্বি। শুক্রবার সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পান স্বজনরা। পরে হাসপাতালে গিয়ে একে একে তাঁদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
আফরোজা আক্তারের বোন আফরিন জাহান জানান, আফরোজাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ফজলে রাব্বি ও শিশু রিশানের মরদেহ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের শরীরে পোড়া ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় চিওড়া কাজীবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন
