

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধ আবারও প্রাণ কেড়ে নিল। প্রতিপক্ষের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলীয়ার গ্রামে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন আলীয়ারা গ্রামের মৃত হাজী সালামত উল্লাহর ছেলে ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার (৬৭) এবং আবুল খায়েরের ছেলে আনোয়ার হোসেন নয়ন (৪০)। তাঁদের দুজনকেই গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় সাত দশক ধরে আলাউদ্দিন মেম্বার ও ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত বছরের ৩ আগস্ট আলাউদ্দিন মেম্বার নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই গোষ্ঠীর অন্তত ৬০–৭০টি পরিবারের মানুষ দীর্ঘদিন গ্রামছাড়া ছিলেন। সম্প্রতি ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর কয়েকটি পরিবার বাড়িতে ফেরার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
আজ সকালে গ্রামের রাস্তা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের কয়েক শ লোক দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় অন্তত আটটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ছালেহ আহাম্মদ মেম্বারকে গুলি ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। আনোয়ার হোসেন নয়নকেও কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়।
আহতদের মধ্যে সোহাগ, কামাল, আব্দুর রাজ্জাক, ইয়াছিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রব, মামুন ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ছালেহ আহাম্মদ মেম্বারের ছেলে আহত মামুন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া ছিলাম। ফিরে আসার পর থেকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিকল্পিতভাবে আজ হামলা চালানো হয়েছে।’
নিহত নয়নের ছেলে ফয়সাল আহম্মদ বলেন, ‘আমার বাবা প্রবাস থেকে দেশে এসেছিলেন গোষ্ঠীগত মীমাংসার জন্য। কিন্তু তাঁকে হত্যা করা হলো। আমরা এর বিচার চাই।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন
