

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষীপুরের রায়পুরে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান ঘটিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য স্বস্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামি।
দলটির উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছে মালেক খাঁন ব্রিজ। স্থানীয়দের কাছে প্রায় তিন যুগ ধরে এই ব্রিজ শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং নিরাপদ চলাচল, শিক্ষা ও বাজারে যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগের প্রতীক।
আজ রবিবার (০৪ জানুয়ারি) স্থানীয়দের নিয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই পারাপার হয় আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর মাঝখানে কনক্রিট সরে বড় গোলাকার ফাঁকা জায়গা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে অনেক দিন ধরে মারাত্নক আতঙ্ক কাজ করছিল।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে। পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন সব পর্যায়ে ছিল স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা।
নতুন এই সেতু চালু হওয়ার পর আমূল পরিবর্তন এসেছে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রায়। এখন কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে স্কুলে পৌঁছাতে পারছে, রোগী পরিবহন সহজ হয়েছে, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াও আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন, এই ব্রিজ বড় একটা ফাঁকা জায়গা থাকার কারণে বাড়ি থেকে ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে একটা ভয়ের মধ্যে থাকতাম। জামায়াতে ইসলামী আমাদের যে উপকার করেছে, তা আমরা ভুলব না। আওয়ামী লীগের আমল থেকেই এই ব্রিজটা ভাঙ্গা থাকলেও তারা ঠিকঠাক করেনি।
এলাকার এক শিক্ষার্থী জানায়, আগে স্কুলে যেতে ভয় লাগত। এখন নিশ্চিন্তে পার হতে পারব।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এমন জনকল্যাণমূলক কাজ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। জামায়াতে ইসলামির এই উদ্যোগ স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করছেন।
তারা আরো বলেন, ৫ আগষ্টের পর আমরা এই এলাকায় অনেক নেতা দেখেছি কিন্তু কেউ মালেক খাঁন ব্রিজাটা সংস্কার করেনি দীর্ঘ দিন পর হলেও জামায়াত ইসলামি আমাদের ভয়, আতঙ্ক এবং কষ্ট লাগব করেছে। আমরা এলাকাবাসির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ তাদেরকে জানাই।
সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
