শুক্রবার
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলজিইডি প্রকৌশলীর কমিশন সাম্রাজ্য, ঘুষের ভিডিও ভাইরাল

শফিকুল ইসলাম জনি, ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল খালেক
expand
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল খালেক

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজের বিল ছাড় করতে গিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারদের দাবি, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল খালেকের চাহিদা অনুযায়ী উৎকোচ না দিলে কোনো প্রকল্পের বিলের কাগজে তিনি স্বাক্ষর করতেন না। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে ঘুষের টাকা জোগাড় করেছেন। এর কারণে কিছু উন্নয়ন কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বারবার সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ঠিকাদার বিল সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য প্রকৌশলী আব্দুল খালেকের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। ভিডিওতে ঠিকাদারকে বলতে শোনা যায়, “স্যার রাখেন এইটা, আমার কাছে পাঁচ হাজার নাই, তিন হাজারই আছে। বিলের সময় ৪৫ হাজার তো নিলেনই।”

জবাবে প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, “আমি সই করলে ইউএনও সই করবে, আমি সই না করলে ইউএনও করবে না।”

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন আব্দুল খালেক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তিনি ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নগরকান্দায় যোগদান করেন এবং যোগদানের পর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগরকান্দায় এডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়। এসব প্রকল্প থেকে তিনি শতকরা ২২ শতাংশ হারে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এডিপি প্রকল্পের ৭৯ লাখ টাকার কাজের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এলজিইডির অধীনে একই সময়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সড়ক, ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে শতকরা ৫ শতাংশ হারে অন্তত দেড় কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদার জানান, নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কাজ বাস্তবায়ন করার পর বিল তুলতে গিয়ে তাদের প্রতিটি ধাপে ঘুষ দিতে হয়েছে। নির্ধারিত ‘পার্সেন্টেজ’ না দিলে বিলের ফাইল আটকে রাখা হতো।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “আমি কোনো উৎকোচ গ্রহণ করিনি। একটি বদমাইশ ভিডিও করেছে। আমি তাকে চিনি না। আমার চাকরির বয়স শেষ, এসব নিয়ে এখন কিছু বলার নেই।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরাজ শারবিন বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীর বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর অবসরে গেছেন। বিষয়টি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।”

ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। এখন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X