

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে ভয়াবহ ও রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় দুইশ’ বছরের অমূল্য দলিল-দস্তাবেজ। আগুনে ধ্বংস হয়েছে ব্রিটিশ আমলের ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ যশোর ও আশপাশের অঞ্চলের ইতিহাসসমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে হঠাৎ করে যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে আগুন লাগে। এক ঘণ্টাব্যাপী আগুনে ভবনের ভেতরে সংরক্ষিত ১৭৪১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, রাত সোয়া ১০ টার দিকে আগুনের সংবাদ পেয়ে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সে সময় ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল এবং ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, পুরনো ভবনের দুটি কক্ষে রাখা বিপুল পরিমাণ পুরনো কাগজপত্র ও দলিল আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা যাবে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন বলেন, একসময় তিনি যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। তার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, এই পুরনো ভবনে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশের এলাকার অতি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষিত ছিল। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা খোলা হতো না। আগুনের পর ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন—প্রায় সব কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আর কিছু নথি আগুন নেভানোর পানিতে নষ্ট হয়েছে।
যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন জানান, রাত ১০ টার পর তারা আগুন লাগার খবর পান। ভবনটির গেটে তালা ছিল এবং সেখানে হীরা নামের একজন নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব থাকার কথা থাকলেও আগুনের সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
এলাকাবাসী ও আশপাশের দোকানিরা ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, ওই পুরনো ভবনে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হতে পারে। তারা অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
