

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেছেন,ইরানের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে।
রোববার (১৭ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘তাদের (ইরান) উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া, তা না হলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়টাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়!’
এর আগে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হওয়ার সময়ও ট্রাম্প একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। সর্বশেষ মন্তব্যে সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি দেখা গেল।
চলতি সপ্তাহে তেহরানের প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে এমন কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, তেহরান আলোচনার অংশ হিসেবে কয়েকটি শর্ত সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ, ইরানের বন্দর এলাকায় মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা। পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে দেশটি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা কিছু শর্ত দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাব।
তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখলে ওয়াশিংটন বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। বিশ্লেষকেরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে আংশিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার পর অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। তবে এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
