রবিবার
২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন কৌশল, পাকিস্তানে শিগগিরই লকডাউন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাতের কারণে গভীর সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি ব্যবহার কমানোর জন্য পাকিস্তান সংকোচনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ‘স্মার্ট লকডাউন’ জারির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর যে কোনো সময় লকডাউনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

রোববার (২৯ মার্চ) সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাজার ও শপিংমল রাত সাড়ে ৯টায় বন্ধ করতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সর্বোচ্চ ২০০ জন অতিথি থাকতে পারবে, এক পদের খাবার পরিবেশন করা হবে এবং রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা ও রাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো।

সরকারি অফিসগুলোতে চালু করা হবে হাইব্রিড কর্মপদ্ধতি। সরকারি দপ্তরে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সশরীরে অফিস, বাকি দুই দিন হোম অফিস করাতে হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ছয় দিন খোলা পরিষেবা বিভাগগুলো চার দিন অফিসে, দুই দিন অনলাইনে কাজ করবে। উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, ৫০ শতাংশ রোটা পদ্ধতিও (শিফট সিস্টেম) কার্যকর করা হবে।

বেসরকারি অফিসগুলোর জন্যও একই ধরনের হোম বা রিমোট অফিসের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এ ছাড়াও সরকারি যানবাহন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জ্বালানি বা যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সম্মিলিত পরিবহন ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।

জ্বালানি সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনায়। সরকারি অফিসে সকাল সাড়ে ১০টার আগে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি খাতের অন্তত ৫০ শতাংশ ভবন সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সমন্বয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভাতা কমানো, সম্পত্তি ও যানবাহন লেনদেনের কর পরিবর্তন, টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমিয়ে ব্যবহার উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলো এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোল লিটারপ্রতি ৩২১ রুপি (পাকিস্তানি মুদ্রায়) এবং ডিজেল ৩৩৫ রুপির উপরে উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তান বৈদেশিক তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি দেশের রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান প্রদেশ সিন্ধুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নাসির হুসেন জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় হিসেবে সরকার স্মার্ট লকডাউন জারির কথা বিবেচনা করছে। প্রাদেশিক সরকার সরকারি যানবাহনের জ্বালানি খরচ ভাতা ৬০ শতাংশ কমিয়েছে। প্রদেশের স্কুলগুলো ১৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন